Bartaman Logo
১০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেশে ফিরলেও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না দানেশ, সুইটিদের, রোজগারহীন, বাতিল ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড

দেশে ফিরে আসলেও দানেশ ও সুইটির চোখে আতঙ্ক। ভোটার ও রেশন কার্ড বাতিল হওয়ায় সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন না। বিস্তারিত পড়ুন।

দেশে ফিরলেও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না দানেশ, সুইটিদের, রোজগারহীন, বাতিল ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড
  • ১০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: অবশেষে স্বস্তি। আইনি লড়াইয়ে জিতে দেশে ফিরলেন সোনালি বিবির স্বামী দানেশ শেখ, সুইটি বিবি ও তাঁর দুই নাবালক সন্তান। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যে নারকীয় পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে তাঁদের তা কি সহজে ভুলতে পারবেন? প্রথমে বাংলাদেশি সন্দেহে চরম নির্যাতন ও  ওপারে পুশব্যাক। তারপর দীর্ঘ বন্দি জীবন। সেই ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণার স্মৃতি তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁদের। আর কখনও দিল্লি বা ভিন রাজ্যে কাজ করতে যেতে চান না তাঁরা।  

Advertisement

আর্থিক সাচ্ছল্যের সন্ধানে দিল্লি পাড়ি দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু রাজনীতির মারপ্যাঁচে তাঁদের পড়তে হয় পুশব্যাকের মুখে। দিল্লি পুলিশ কিছু যাচাই না করেই গর্ভবতী সোনালি, তাঁর স্বামী ও নাবালক সন্তান, সুইটি বিবি সহ বেশ কয়েকজনকে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে। কয়েকদিন বাংলাদেশের জঙ্গলে কাটানোর পর ভারতে ফিরে আসার চেষ্টা করলে বিএসএফের হাতে জোটে চরম লাঞ্ছনা ও শারীরিক অত্যাচার। এরপর দীর্ঘ আইনি জটিলতায় কেটে যায় কয়েকটা মাস। অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে তাঁদের ঠিকানা হয় বাংলাদেশের জেলে। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত ডিসেম্বরে ভারতে ফেরানো হয় সোনালি ও তাঁর নাবালক সন্তানকে। এরপর ফের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেওয়ায় গত বুধবার সোনালির স্বামী দানেশ, সুইটি ও দুই নাবালক সন্তানকে দেশে ফেরানো হয়। 
এদিন পাইকরে গিয়ে দেখা গেল, সোনালি ও সুইটিদের বাড়িতে স্বস্তি ফিরেছে ঠিকই। কিন্তু দেশে ফিরেও তাঁদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। দানেশ বলেন, আইনি লড়াইয়ে হয়তো আমরা জিতেছি, কিন্তু জীবনের যে দিনগুলো জেলের অন্ধকারে বা ভিন দেশে মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেল, সেই দিনগুলো আমাদের মনের গভীরে দগদগে ক্ষত এঁকে দিয়ে গেল। চোখ মুছতে মুছতে বলেন, যা অভিজ্ঞতা হল, তাতে আর ভিন রাজ্যে কাজে যাব না। এদিকে দেশে ফিরেও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন সুইটি। একসময়ের চেনা কর্মস্থল দিল্লির নাম শুনলেই এখন আঁতকে উঠছেন। দিল্লি মানেই তাঁর কাছে পুশব্যাক আর বন্দি জীবনের চরম আতঙ্ক। ও পথে আর পা বাড়াতে রাজি নন তিনিও। তীব্র মানসিক ট্রমা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঘরের চেনা পরিবেশ ছেড়ে বাইরে যাওয়ার সাহস পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন। সুইটি বলেন, দেশে ফেরার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম না থাকলে হয়তো আর কোনোদিন ফিরতে পারতাম না। অনুপ্রবেশকারী বলে বাংলাদেশে আমাদের কাজে নিতে চায়নি। আমার ১৫ বছরের ছেলে কুরবান একটি বাগানে আম পাড়ার কাজ করেছে। সামান্য আয়ে কোনোরকমে দিন কেটেছে। একই কাজ করতেন দানেশও। 
এখন অভাবের সংসার চালানোই বড় চ্যালেঞ্জ তাঁদের কাছে। সোনালি, সুইটি ও দানেশদের আধার, প্যান কার্ড থাকলেও নেই ভোটার কার্ড। রেশন কার্ড বাতিল হয়েছে। ফলে সরকারি প্রকল্পের কোনো সুবিধা তাঁরা পাচ্ছেন না বলে জানান সোনালি। এমত অবস্থায় ভোটার তালিকায় নাম তোলা তাঁদের কাছে অত্যন্ত জরুরি। সেই সঙ্গে সামিরুল ইসলামের কাছে তাঁরা অনুরোধ জানিয়েছেন, এখানেই তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। যদিও সামিরুল সাহেব বলেন, আমরা তো সরকারে নেই। তবুও ওঁদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি দেখছি। 
আইনি যুদ্ধ শেষ হলেও সোনালি-সুইটিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই এবার শুরু হল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ