Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজগঞ্জ: চেয়ারে না থেকেও প্রশাসনে প্রভাব! চারমাস পরও বিডিওর চেম্বারে নেমপ্লেটে প্রশান্ত বর্মনের নাম

চেয়ারে না থেকেও প্রশাসনের অন্দরে কাজ করেছে প্রশান্ত বর্মনের প্রভাব?

রাজগঞ্জ: চেয়ারে না থেকেও প্রশাসনে প্রভাব! চারমাস পরও বিডিওর চেম্বারে নেমপ্লেটে প্রশান্ত বর্মনের নাম
  • ২৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, রাজগঞ্জ: চেয়ারে না থেকেও প্রশাসনের অন্দরে কাজ করেছে প্রশান্ত বর্মনের প্রভাব? পদ হারানোর চারমাস পরও রাজগঞ্জে বিডিওর চেম্বারে নেমপ্লেটে তাঁর নাম জ্বলজ্বল করতে দেখে উঠছে এমনই প্রশ্ন। দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত জানুয়ারি মাসে বিডিওর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় প্রশান্ত বর্মনকে। কিন্তু তারপরও এতদিন ধরে কেন রাজগঞ্জে বিডিওর চেম্বারের বাইরে থেকে তাঁর নেমপ্লেট খোলা হল না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। শুক্রবার এনিয়ে জানতে চাওয়া হলে জলপাইগুড়ির জেলাশাসক সন্দীপকুমার ঘোষ বলেন, রাজগঞ্জে বিডিওর চেম্বারের বাইরে থেকে প্রশান্ত বর্মনের নেমপ্লেট খুলে ফেলতে বলা হবে।

Advertisement

বর্তমানে পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ প্রশান্ত। যদিও এলাকার লোকজনের অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের আগে তাঁকে রাজগঞ্জে একাধিকবার দেখা গিয়েছে। এমনকী তিনি নাকি বিডিও অফিসেও এসেছিলেন। এখানেই প্রশাসনের অন্দরে প্রশান্তর প্রভাব নিয়ে উঁকি দিচ্ছে সন্দেহ। এমন প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে, বিডিওর পদে না থাকলেও গত চারমাস ধরে তলে তলে তিনি কি রাজগঞ্জে ব্লক প্রশাসনের কাজে ‘খবরদারি’ চালাচ্ছিলেন? তাঁর সঙ্গে কি বিডিও অফিসের কারও গোপন যোগসাজশ রয়েছে? যার মাধ্যমে রাজগঞ্জ বিডিও অফিসে কী ঘটছে, তার নিয়মিত খোঁজখবর পেতেন তিনি? কেনই বা ভোটের আগে রাজগঞ্জে এসেছিলেন প্রশান্ত? রাজ্যে পালাবদলের পর মাথাচাড়া দিয়েছে এসব প্রশ্ন। 
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি, প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চোরাচালানে যুক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এরপরও তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কীভাবে? বিজেপি সরকার প্রশান্ত বর্মনকে ছেড়ে দেবে না। তাঁর দাবি, বিধানসভা ভোটের আগে প্রশান্ত বর্মন গজলডোবায় এসে হম্বিতম্বি করে গিয়েছেন। রাজগঞ্জ বিডিও অফিসের সামনে এসেও দাপট দেখিয়ে গিয়েছেন। পুলিশ সেসময় তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি। এখন পুলিশ যদি একই কাজ করে, পুলিশকে ছেড়ে কথা বলা হবে না। প্রশান্ত বর্মন কবে গ্রেপ্তার হবেন, তা দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিডিওর চেয়ারে থাকাকালীন রাজগঞ্জে তিনি সরকারি প্রকল্পে কোথায়, কী দুর্নীতি করেছেন, তা খতিয়ে দেখতে অবশ্যই ফাইল খোলা হবে। 
এদিন রাজগঞ্জ ব্লক অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দোতলায় চেম্বারের বাইরে দিব্যি বিডিও হিসাবে প্রশান্ত বর্মনের নেমপ্লেট শোভা পাচ্ছে। বিডিওর চেম্বার অবশ্য বন্ধ। প্রশান্ত বর্মন অফিস ছাড়ার পর থেকেই তালা পড়েছে ওই চেম্বারে। চাবি অফিসের কর্মীদের কাছে থাকলেও বিডিও হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ার পর ওই চেম্বারে বসতে চাননি জয়েন্ট বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডল। ব্লক অফিসের নীচের তলায় জয়েন্ট বিডিও হিসাবে আগে তিনি যে ঘরে বসে কাজ করতেন, সেখানেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিনও তাঁকে ওই ঘরে বসে কাজ করতে দেখা যায়। তাঁর দাবি, বিডিওর চেম্বারের বিষয়ে কিছু জানি না। আমি ওই ঘরে বসিনি।
রাজগঞ্জ ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন কাজের ইতিমধ্যেই স্ক্রুটিনি শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রশান্ত বর্মন বিডিও থাকাকালীন যেসব কাজ হয়েছে, সেগুলি ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ