নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের লিংক রোড শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে স্টিল টাউনশিপ থেকে কয়েক হাজার কর্মী প্রতিদিন তাড়াহুড়ো করে ডিএসপি কারখানায় যান। বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা থাকায় সময়মতো কারখানার গেটে ঢোকার ক্ষেত্রে তাঁদের ব্যাপক তাড়া থাকে। এই রাস্তাতেই মৃত্যুদূত হয়ে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিশাল তোরণ। রাস্তার দু’পাশ দখল করে তোরণ রয়েছেই। পাশাপাশি, রাস্তায় থাকা ডিভাইডারও ঢেকে দেওয়া হয়েছে। যে কাপড়ে তোরণটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তা খুলে রাস্তায় উড়ছে। মোড়ের কাছে এই তোরণ থাকায় রাস্তার অন্য পাশ দিয়ে গাড়ি আসছে কি না, দেখা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যেই ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।
এনিয়ে মোড়ের চায়ের দোকানে জোর চর্চা চলছে। বাসিন্দাদের দাবি, পার্টির কর্মসূচি হয়ে গেলে তোরণ খুলে নেওয়া উচিত। দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যু হলে তার দায় কে নেবে? পুরসভাও এব্যাপারে চোখ বুজে আছে।
গত ১০ জানুয়ারি লিংক রোডের উপর এই বিশাল তোরণটি তৈরি করা হয়েছিল। ১৩ জানুয়ারি দুর্গাপুরে দিলীপ ঘোষ ও শমীক ভট্টাচার্যের মেগা সভার প্রচারে তা তৈরি করা হয়। সেই সভা তখন বাতিল হয়। তোরণ থেকে যায়। পরবর্তীকালে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন দুর্গাপুরে আসেন। সেই তোরণটিকেই নীতিন নবীনের স্বাগতম তোরণ করে দেওয়া হয়। তিনি কর্মসূচি সেরে বাংলা থেকে ২৮ জানুয়ারি চলে গিয়েছেন। অথচ এখনও এতদিন পরেও সেই তোরণ বহাল তবিয়তে রয়ে গিয়েছে। শুধু একটি নয়, ভগৎ সিং মোড় থেকে দুর্গাপুর এনআইটি যাওয়ার রাস্তাতেও রিকল মোড়ের কাছে বিজেপির আরও একটি স্বাগতম তোরণ রেখে দেওয়া হয়েছে। সেটিও নীতিন নবীনকে স্বাগত জানাতে তৈরি করা হয়েছিল। যাতায়াতে বাধা সৃষ্টিকারী তোরণগুলি নিয়ে শহরবাসীর ক্ষোভ বাড়ছে। কিন্তু ক্ষোভ শুধু বিজেপির প্রতি নয়, অনেকেই পুরসভার এই উদাসীনতাকে ভালভাবে নিচ্ছেন না। পুরসভা কেন এব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে না, এনিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।
এবিষয়ে পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, আমি নিজে বিজেপি নেতৃত্বকে তিনবার ফোন করেছি। অনুরোধ করেছিলাম, কর্মসূচি শেষ হয়েছে, এবার আপনাদের তোরণ খুলে দিন। ওঁরা এখনও তা করেননি। এডিডিএ চেয়ারম্যান কবি দত্তও পৃথকভাবে অনুরোধ করেছেন। তাতেও কাজ হয়নি। ভোটের মুখে আমরা জোর করে তোরণ খুলতে গেলে বিজেপি মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে।
বিজেপি জেলা সহ সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা বিভিন্ন পতাকা, হোর্ডিং খোলা করিয়েছি। তোরণ খোলার জন্য ডেকরেটরকে অনুরোধ করা হয়েছে। মানুষের সমস্যা হচ্ছে। আমরা আবারও ডেকরেটরকে অনুরোধ করব।
শুধু তোরণ নয়, দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারে লাগামহীনভাবে চলছে ফুটপাত দখল। তা নিয়েও মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ফুটপাত দখল করার পর দোকানগুলি কার্যত রাস্তার উপরে চলে এসেছে। এর ফলে শহরের মূল বাজারে যানজট বাড়ছে। অনেকেই রাস্তায় ঠেলা গাড়ি দাঁড় করিয়ে ব্যবসা করছেন। বিষয়টি নিয়েও পুরসভার পদক্ষেপের আশায় শহরবাসী।