নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডেঙ্গুর ভয়ে কাঁপছে ইউরোপ! ভারতীয় উপমহাদেশের তুলনায় কিছুই নয়, তাও অশনি সংকেত আঁচ করছে ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তার কারণও আছে অবশ্য। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ইউরোপে ৩০৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। সেই জায়গায় তার আগের ১৫ বছরে সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭৫। এই পরিস্থিতিতে সেই ‘উন্নয়নশীল’ ভারত সহ তৃতীয় বিশ্বের দ্বারস্থ হচ্ছে ই ইউ। ইউরোপ এবং এশিয়ার প্রথম সারির চিকিৎসা বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকদের নিয়ে তৈরি হয়েছে নয়া আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ‘কমব্যাট ডেঙ্গু’। কো-অর্ডিনেশনের দায়িত্বে আছে সুইডেনের স্টকহোমের নোবেল প্রদানকারী বিশ্ববরেণ্য সংস্থা ‘কারোলিনসকা ইনস্টিটিউট’। ইউরোপিয় ইউনিয়ন এই প্রকল্পে প্রত্যক্ষভাবে অর্থ সাহায্য করছে। তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট দিশা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ইনস্টিটিউট সহ যৌথ প্রতিনিধিত্বের তালিকায় খ্যাতনামা বাঙালি চিকিৎসক এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের ছড়াছড়ি। কারোলিনসকার প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ডাক্তার উজ্জ্বল নিয়োগী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাক্তার স্বরূপ সরকার, এইমস কল্যাণীর ডাক্তার সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তরুণ- প্রবীণের মিশ্রণে কে নেই!
‘কমব্যাট ডেঙ্গু’ প্রকল্প মূলত দু’টি কাজ করবে। প্রথমত, গবেষণাগারে মানব মস্তিষ্কের অনুরূপ তৈরি করে সেখানে ডেঙ্গুর পরীক্ষা চালানো। যাতে বোঝা যায়, মস্তিষ্কের মতো গুরুতর অঙ্গে এই মশাবাহিত অসুখ কী কী প্রভাব ফেলে। দ্বিতীয়ত, ডেঙ্গুর বায়ো মার্কার বের করা। এর মাধ্যমে খুব সহজেই বোঝা যাবে, কোন কোন ডেঙ্গু রোগীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হতে পারে।
কিন্তু কেন ইউরোপিয় ইউনিয়ন ‘উন্নয়নশীল’ দেশের রোগ’ নিয়ে এত চিন্তিত? ইউরোপে কখনওই ডেঙ্গু নিয়ে কোনও বিরাট মাথাব্যথা ছিল না। তবে গত কয়েক বছর ধরে এই অবহেলার ডেঙ্গুই উদ্বেগ বাড়িয়ে চলেছে বিজ্ঞানীদের। কারণ, অল্প হলেও ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা ঘটছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। তাছাড়া, গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে ইউরোপের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশারদরা বলছেন, ইউরোপ মানেই সারা বছর অসহ্য ঠান্ডা—এই ধারণা আগামী ১০ বছরেই ইতিহাস হয়ে যাবে। তাপমাত্রা বাড়তে থাকার ফলে ক্রমেই তা ডেঙ্গুবাহক মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল হয়ে উঠছে। তার উপর ফি বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকা বিভিন্ন দেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ পর্যটক বেড়াতে আসছেন ইউরোপের দেশগুলিতে।
এইমস কল্যাণীর সংক্রামক অসুখ বিভাগের প্রধান সায়ন্তনবাবু বলেন, ‘ভারত, চীন সহ বিভিন্ন দেশ থেকে বড় বড় কন্টেইনারে জিনিসপত্র ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আসে। কন্টেইনারে জমা জল ডেঙ্গুর মশা ইডিস ইজিপ্টাই এবং ইডিস অ্যালবোপিকটাসের বংশবৃদ্ধির অনুকূল। সেই সঙ্গে পর্যটন সহ নানা কারণে ডেঙ্গু বাহক মশা ও এর পোষক মানুষ— দু’য়েরই সহাবস্থান ঘটছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধিও ক্রমশ ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্তের অনুকূল হয়ে উঠছে। সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি।