কবিপক্ষের রবীন্দ্রসদন চত্বর। মুক্তমঞ্চ। উদাত্ত গলায় গাইছিলেন খ্যাতনামা গায়িকা। ‘আজি যত তারা তব আকাশে।’ দর্শকাসনে বসা বছর পাঁচেকের ছেলেটি হঠাৎ চঞ্চল হয়ে উঠল। মায়ের হাত ধরে টান দিয়ে বলল, ‘মা, তারা কই? ওই যে গাইছে যত তারা আকাশে। তারা কই?’ দর্শকরা দেখতে লাগলেন শিশুটিকে। মা ব্যতিব্যস্ত। অপ্রস্তুত। শিশুপুত্রের সেদিকে নজর দিতে অবশ্য বয়েই গিয়েছে। মুখে এক বুলি। ‘মা, তারা কই?’ আকাশের দিকে গলা বাড়িয়েছিল ও। এবারে ছেলেটির বাবা গুগল খুললেন স্মার্টফোনে, ঝটিতি। স্ক্রিনটা ছেলের মুখের সামনে এগিয়ে দিয়ে বলে উঠলেন, ‘এই তো। জাস্ট লুক অ্যাট দিস, বেবি। সো মেনি স্টার্স।’ ছেলেটি একরোখা। মোবাইল ফোনটি বিদ্যুৎগতিতে বাবার হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বলল, ‘না না, এগুলো না। আমায় আসল তারা দেখাও। রিয়েল স্টার্স।’ অনুষ্ঠান ত্যাগ করে সন্তানকে বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই দম্পতি। তিনজনই আকাশের দিকে জিরাফের মতো গলা উঁচিয়ে তারা খোঁজার চেষ্টা করছিলেন। খুঁজে পাননি। না হলে ছেলেটি হঠাৎ তারস্বরে কান্না জুড়ে দেবে কেন?
আকাশ ভরা সূর্য তারা বিশ্বভরা প্রাণ। কিন্তু আকাশ থেকে তারারা সব ডুব দিয়েছে কোথায়? বছর তিরিশ আগেও বাড়ির ছাদে উঠে আকাশের দিকে তাকালে কিছু তারার সন্ধান মিলত। সেগুলো সব গেল কই? তারাগুলো কি মুখ লুকলো বড্ড তাড়াতাড়ি? দিনে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপনা এবং রাতে কবিতাচর্চা করা এক বন্ধু এ প্রসঙ্গে দিনকয়েক আগে বলছিলেন, ‘এত আলো মেখেছি দু’চোখে এতকাল ধরে। মিছিমিছি তারাদের দোষ দিয়ে কোনও লাভ নেই ভায়া।’ বুঝলাম, আমরা আজ আলোর পূজারী। অন্ধকার তাই পালিয়েছে ভয়ে। সঙ্গে নিয়েছে তারাদেরও।
বায়ুদূষণ, জলদূষণ, শব্দদূষণ—এগুলো তো শুনেছি সেই ছোটবেলা থেকেই। বাংলা পরীক্ষায় স্কুলজীবনে রচনা লিখেছি বহু। এই ‘পুরনো’ হয়ে যাওয়া দূষণকে ছাপিয়ে ইদানীং একটি বিষয়ের চর্চা হচ্ছে বেশ। তা হল আলোর দূষণ। স্কুলজীবনে বিজ্ঞান স্যারের বলা কিছু কথা মনে পড়ে গেল হঠাৎ। প্রতিদিনের বিজ্ঞানপাঠের সঙ্গে তিনি পরম মায়ায় গেঁথে দিতেন গল্প। ‘এখনকার মতো রেডিও, টিভি, ল্যান্ডলাইন ফোন তো ছিল না আমাদের আদিম পূর্বসূরিদের কাছে। সারাদিনের কায়িক শ্রমের পর কী করে সময় কাটাবেন তাঁরা? কী করতেন জানো? আকাশের দিকে চেয়ে থাকতেন। তারাদের দেখতেন। ওদের সঙ্গে গল্প করতেন। অনন্ত অন্ধকারে জেগে থাকা তারাদের মধ্যে প্রাণসঞ্চার করে, এক তারার সঙ্গে অন্য তারাকে জুড়ে দিয়ে তাঁরা সৃষ্টি করতেন কোনও চরিত্র। এভাবেই জন্ম নিয়েছে কালপুরুষ, সপ্তর্ষিমণ্ডল, বৃশ্চিক, আরও কতকিছু। সরলরৈখিক কয়েকটি তারা হয়ে উঠেছে যোদ্ধার বেল্ট। জন্মেছে রূপকথা।’ অবাক হয়ে শুনতাম স্যারের কাছে। তিনি কি আসন্ন বিপদের কথা আঁচ করতে পেরেছিলেন আগেই? না হলে কেন বলবেন, ‘সন্ধেবেলা মন খারাপ হলে গল্প করবে তারাদের সঙ্গে। মন ভালো হয়ে যাবে, দেখে নিও। এ সুযোগ বেশিদিন আর পাবে না কিন্তু, এই আমি বলে রাখলাম।’
আলোর দূষণের সংজ্ঞা বলে, এটি হল মানুষের তৈরি করা অতিরিক্ত এবং অবাঞ্ছিত আলো, যা রাতের স্বাভাবিক আকাশকে কৃত্রিমভাবে আলোকিত করে। প্রকৃতির আলো-আঁধারির স্বাভাবিক আসা যাওয়াকে প্রতিহত করে। আরও বিশদে বলা যেতে পারে, স্থলভাগ যেখানে আকাশের সঙ্গে গিয়ে মেশে, অর্থাৎ দিকচক্রবালে বসিয়ে দিতে শুরু করে এক ফ্যাকাসে সোনালি জরির পাড়। এই পাড়ের প্রস্থ বেড়ে চলেছে প্রতি বছর। রাতের আকাশে সোজাসুজি তাকালে আগে যেখানে দেখতাম ঘুটঘুটে অন্ধকারে জোনাকির মতো তারা, সেখানে আজ যা দেখি তাকে সোনালি-কালো কোলয়ডাল দ্রবণের মতো লাগে। কিছু দূর গিয়ে দৃষ্টি থেমে যায়। হ্যালোজেনের অস্বস্তিকর আভার প্লাস্টিক মুকুট পরে থাকে উপরে থাকা অসীম শূন্য। ‘আঁধার আমার ভালো লাগে’ বলে গান ধরলে এই যুগে আর প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না। আমাদের সঙ্গে আড়ি করে দিয়েছে অন্ধকার। আলোর সঙ্গে আমাদের মনস্তত্ত্বের কি কোনও জটিল সমীকরণ রয়েছে? পুঁজিবাদী দুনিয়ায় আলোর রকমফেরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কি বদলে যায় কনজিউমার বিহেভিয়ার? শপিং মলগুলো সাধারণ দোকানের থেকে অনেক বেশি ঝলমল করে বলেই কি সেখানে বিক্রির পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী? বেশি আলো দেখলে কি আমাদের আরও বেশি খরচ করার প্রবণতা বাড়ে? এই নিয়ে দুনিয়াজুড়ে চর্চা হচ্ছে বিস্তর। মার্কেটিং দুনিয়ার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পোশাক-আশাক কেনার সময় সেগুলোর উপরে চড়া আলো ফেলা হলে সামগ্রীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলির ক্ষেত্রেও মোটামুটি একই কথা প্রযোজ্য। কথাটা আরও বেশি করে খাটে গয়নার দোকানের ক্ষেত্রে। সেখানকার আলোয় তো সূর্যের মতো তেজ। সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, কেনাকাটার সময় আলো উজ্জ্বল হলে খরিদ্দারদের মন মেজাজ ফুরফুরে থাকে ও জিনিসের প্রতি কৌতূহল বেড়ে যায়। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে সেলস অ্যাসোসিয়েটদের গ্রহণযোগ্যতা। ‘স্যার, একটু ট্রাই করে দেখবেন না কি?’ অবধারিত উত্তর আসে, ‘কেন নয়?’ ট্রলি ভর্তি হয় দ্রুত। এর সম্মিলিত ফলাফল হল আরও বেশি বিক্রি। অথচ কী মজার ব্যাপার দেখুন! ঠিক উল্টোটা হয় রেস্তরাঁয়। রেস্তরাঁর ‘ফাইন ডাইন’ হওয়ার সঙ্গে সেখানকার অন্দরমহলের আলোর রোশনাইয়ের ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ক রয়েছে। ঘুরিয়ে বলা যায়, রেস্তরাঁ যত দামি হবে, আলোর ব্যবহার হবে তত কম। আলো স্টাইলিশ হতে পারে, কিন্তু চড়া আলো নৈব নৈব চ। জানা গিয়েছে, খাওয়ার সময় মৃদু আলো এক বিশেষ ধরনের অ্যাম্বিয়েন্স তৈরি করে। হালকা আলোয় কি খিদে চাগাড় দেয় বেশি? এ বিষয়ে বিপণনবিদদের বিভিন্ন প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ব্লগ পড়ে জানা গেল, অল্প আলো আমাদের মনকে আরও বেশি ফাইন ডাইন করার জন্য উপযুক্ত করে তোলে এবং একটার পর একটা আইটেম অর্ডার করার জন্য ইন্ধন দিয়ে যায়। বাহারি রেস্তরাঁয় আরও বাহারি আলোই হয়তো ক্যাটালিস্ট! অতিরিক্ত আলো এই শখ মেরে দেয়। একটি নামী, প্রায়ান্ধকার রেস্তরাঁয় দেখেছিলাম, টেবিলে বসানো সিগারেটের বাক্সের মতো একটি আয়তকার জায়গায় টিমটিম করে জ্বলছে কিউআর কোড দেওয়া মেনুর ব্যাকপ্যানেল। কৃত্রিম মোমবাতির কৃত্রিম মৃদু আলোয় চলছে জবরদস্ত খানাপিনা। ক্যান্ডললাইট ডিনার। সস্তার হোটেলে আলো থাকে চড়া। বলাই বাহুল্য, সেগুলো ফাইন ডাইনিং নয়। মেনু সীমিত এবং অতি সাধারণ। খাবার নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার ব্যাপারটিও একটি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। এসো, বসো, খাও, যাও ধরনের রেস্তরাঁ হলে আলো নিয়ে অত ভাবনার বিশেষ প্রয়োজন পড়ে না।
মুশকিল হল, কোনও শপিং মলে যে কটি দোকান থাকে, রেস্তরাঁর জন্য বরাদ্দ জায়গা সাধারণত তার ৫ শতাংশের বেশি হয় না। ফুড কোর্টও কিন্তু আলোর ঝলকানিমুক্ত নয়। শপিং মল এবং অট্টালিকা কী হারে বাড়ছে তা জানানোর জন্য কোনও সমীক্ষার ফলাফল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পাঠ্যবইতে লেখা ছিল, ‘আমরা চোখ মেললেই যা দেখি, তার নাম পরিবেশ।’ সেই পরিবেশের নিত্যদিনের বদল দেখছি দুই চোখ মেলে। ‘বদলে যাচ্ছে আমার শহরের স্কাইলাইন’ লিখে আন্তর্জালে সার্চ মারলে কয়েকশো ব্লগ স্ক্রিনে এসে হাজির হয় সোল্লাসে, আর্তনাদে। প্রতিটি নতুন কনস্ট্রাকশন মানেই তো আবার অনেক আলো! অতিরিক্ত আলো। এই চড়া আলো কীভাবে আমাদের ক্ষতি করে তা জানার চেষ্টা করা যেতে পারে। মার্কিন মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বেডরুমের জানালার পর্দা ভেদ করে আসা বাইরের আলোর পরিমাণের সঙ্গে আমাদের ঘুমের গণ্ডগোলের এক সমীকরণ গড়ার চেষ্টা করেছে। দেখা গিয়েছে, টিউবলাইটের আলো আমাদের যতটা ঘুম নষ্ট করতে পারে, এলইডি আলো পারে তার পাঁচ গুণ। ঘরের আলো বন্ধ করে দিলেও অনেকসময় বাইরের আলো ঠেকাতে ব্যর্থ হই আমরা। ঘরের অন্দরে কিংবা বাহিরে অতিরিক্ত আলোয় রাত্রিযাপন বিরূপ প্রভাব ফেলছে আমাদের শরীরে, বিশ্বজুড়ে। ঘুমের মান ও পরিমাণ, দুটোই কমছে একে অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। রাতে জাগছি বেশি। ঘুমোচ্ছি কম। ফলে দিনের বেলা জেগে থাকার সময়েও এর প্রভাব পড়ছে। ঘুমঘুম ভাবটা যাচ্ছে না কিছুতেই। ক্রমশ মোটা হয়ে পড়ছি। বিভিন্ন সমীক্ষা অতিরিক্ত কৃত্রিম আলোয় আমাদের দিনযাপনের সঙ্গে সরাসরি জুড়ে দিয়েছে অবসাদ, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, ডায়াবেটিস, স্থূলত্ব এমনকী কর্কটরোগের মতো দুঃখযাপনকেও। উঠে আসছে অ্যালঝাইমার্সের মতো জটিল অসুখের কথাও। এই তালিকা অন্তহীন। চিকিৎসকেরা বলছেন, আমাদের মন মেজাজ ভালো রাখার জন্য এবং ঘুম আনার জন্য মেলাটোনিন নামক যে হরমোন মস্ত ভূমিকা পালন করে, রাতের অনেকটা সময় কৃত্রিম আলোতে থাকার জন্য তার জৈবিক উৎপাদন প্রক্রিয়াই স্বাভাবিকত্ব হারায়। এক সমাজবিদকে বলতে শুনেছিলাম, ‘জঙ্গল ছেড়ে, শিকার ছেড়ে ফ্ল্যাটে এসে অ্যাপ মারফত বাহারি খানা অর্ডার দিলে কী হবে! মনের মধ্যে এখনও যে জ্বলতে থাকে এক আদিম পিদিম। শিকড় ভুলে যাওয়া কি অত সহজ নাকি মশাই? তাই তো বেডকভারে, বালিশের কভারে, পর্দায় এখনও শোভা পায় জঙ্গল ছাপ। সূর্য অস্তাচলে গেলেই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তেন আমাদের আদি পূর্বসূরিরা। আর আমরা মধ্যরাতেও আলো দিয়ে ঘিরে থাকি আমাদের।’ থামলেন। একটু হাসলেন তিনি। হাসির মধ্যে মিশে ছিল ব্যঙ্গ। তির্যকভাবে তাকিয়ে ফের বললেন, ‘বিন্দু বিন্দু আলো দিয়ে আমরা অন্ধকারের জন্ম দিচ্ছি ক্রমশ। আগামী দিনের অন্ধকার।’
২০২৫ সালে বসে যদি চাঁদে টিনটিনের পরিকল্পনা করতেন হার্জেসাহেব, তাহলে মহাশূন্য থেকে তোলা পৃথিবীর ছবিটিও হয়তো আঁকতেন অন্যভাবে। কিংবা প্রশ্ন করতেন, ‘এত আলো কেন?’ মহাকাশ সফর শেষে সদ্য ফিরে আসা আকাশকন্যা সুনীতা উইলিয়ামসকে হয়তো জিজ্ঞেস করতেন, ‘অনেক দূর থেকে কেমন দেখলে পৃথিবীকে? ঠিকঠাক নাকি চোখ ধাঁধানো?’ এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, আমাদের এত আলোপ্রীতি চোখ এড়িয়ে যেতে পারেনি কৃত্রিম উপগ্রহের ক্যামেরারও। ঢুঁ মেরে আসা যেতে পারে নাসার ওয়েবসাইটের ‘সায়েন্টিফিক ভিসুয়ালাইজেশন স্টুডিও’ সেকশনটি। ছোট্ট কয়েকটি ভিডিও স্ট্রিপে ধরা পড়েছে ২০১২ থেকে ২০২৩—এই ১২ বছরে পৃথিবীর বদলে যাওয়া আলোর মানচিত্র। দেখে মনে হবে, দুম করে যেন বেড়ে গেল ব্রাইটনেস। হঠাৎ যেন জ্বলে উঠল আরও কয়েক লক্ষ প্রদীপ। বলা বাহুল্য, এগুলো প্রদীপ নয়, আলো। আরও ভালো করে বলতে গেলে, বাড়তি আলো। আন্তর্জালে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে লাইট পলিউশন ম্যাপ সম্পর্কেও। বাংলায় কী নামে ডাকা যেতে পারে একে? আলোর দূষণের মানচিত্র? বেশ কিছু ওয়েবসাইট আছে এ বিষয়ে। কোন অঞ্চলে কৃত্রিম আলোর পরিমাণ কতটুকু, এ সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা করতে পারা যায় এমন মানচিত্র থেকে। কার্সার এদিক ওদিক করে, এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে গুপি বাঘার মতো ম্যাজিক ভ্রমণ করে সামগ্রিকভাবে যা বোঝা যায় তা হল—আঁধার ক্রমে কমে আসিতেছে। তবে এই ঔজ্জ্বল্য প্রদীপের নীচে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা অন্ধকারেরই কথা বলে।
‘অতিরিক্ত আলোর প্রবেশ নিষেধ’ লেখা কোনও প্ল্যাকার্ড কি লাগিয়ে দেওয়ার অধিকার আছে আমাদের, অন্তত নিজেদের বাড়ির সামনে? রাস্তার তুমুল আলো থেকে বাঁচার জন্য যদি পর্দাও যথেষ্ট না হয়, তখন? হাইরাইজ নির্মাতাদের সামনে আমরা হাতজোড় করে বলতে পারি, ‘যেটা বানিয়েছেন স্যার, তা অতি উত্তম বটে। কিন্তু সে তো আইফেল টাওয়ার নয়! ইন্টেরিয়রে আপনি যা খুশি করুন, আলোর ঝর্ণাধারায় যত পারেন ধুইয়ে দিন, কিন্তু বাইরের আলো একটু কম রাখুন প্লিজ।’ আর নিজেদের বলতে পারি, ‘আলোর যতটুকু প্রয়োজন, ব্যবহার করব ঠিক ততটুকুই, কেমন?’
কোথায় যেন পড়লাম, আকাশের ঔজ্জ্বল্য দ্বিগুণ হচ্ছে প্রতি ৮ বছরে। ছাদে গেলে যে ধূসর আলোর আকাশকে আজ দেখি আমরা, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো সেটুকুও দেখতে পাবে না আর। বাল্বের সামনে ধরা ঘষা কাচের মতো হয়ে যাবে আমাদের উপরমহল। আমরা গল্প করব ছোটবেলায় দেখা লোডশেডিংয়ের। আকাশটা হঠাৎ কাছে চলে আসত নিকষ অন্ধকারে। গুগল করে দেখব জোনাকি। ওদের গা থেকে তারার মতো আলো জ্বলত। ‘তোমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার’ কথাটা এখন কেমন যেন রূপকথার মতো লাগে। আমার এক বন্ধু আছেন। স্কুলপড়ুয়াদের তারা চেনানো তাঁর শখ। ক্যাম্প করে তাদের নিয়ে যান দূরে কোথাও।
জুম করা, আরও জুম করা লাইট পলিউশন মানচিত্র তাঁর ল্যাপটপের স্ক্রিন চৌচির করে বেরিয়ে আসতে চায়।
আঁধার নিরুদ্দেশ।



