সংবাদদাতা, মানিকচক: মানিকচকে গঙ্গা নদীর জলস্তর কমতেই শুরু ভাঙন। গোপালপুরে কয়েক ঘণ্টার ভাঙনে তলিয়ে গেল ২০০ মিটার এলাকা। একমাস আগে ভাঙন রোধে করা সমস্ত বালির বস্তার কাজ বর্তমানে গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। স্থায়ী ভাঙন রোধে পাথরের কাজের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানিকচকের গোপালপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত শান্তিমোড় এলাকা, সেখান থেকে গঙ্গার দূরত্ব মাত্র ১০০ মিটার। সেখানে বৃহস্পতিবার বিকেলে থেকে শুরু হয় ভাঙন। মুহূর্তের মধ্যেই নদী সংলগ্ন জমিতে ভাঙন দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর মধ্যেই কয়েক বিঘা জমি গঙ্গায় বিলীন হয়ে যায়। গঙ্গার গ্রাসে জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ফসল ও গাছ কাটতে শুরু করেন জমি মালিকরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই ভাঙন। ২০০ মিটার লম্বা এলাকাজুড়ে জমি চোখের সামনেই তলিয়ে যেতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঠিক একইভাবে শুক্রবার সকালেও বিক্ষিপ্তভাবে এলাকায় ভাঙন হয়েছে।
এক মাস আগেই এই সমস্ত এলাকায় বালির বস্তার মাধ্যমে ভাঙন রোধের কাজ করা হয় সেচদপ্তরের পক্ষ থেকে। সেই সমস্ত কাজও এদিনের ভাঙনে গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। গোপালপুরের কালীটোলার বাসিন্দা লক্ষণ মণ্ডল বলেন, এখানে ভাঙন রোধে বালির বস্তার কাজের নামে শুধু লুট হয়েছে, এদিনের ভাঙন তারই প্রমাণ। সমস্ত কাজ বর্তমানে নদীগর্ভে, এভাবে কাজ করে কোনও লাভ নেই। গোপালপুরকে বাঁচাতে হলে পাথরের মাধম্যে স্থায়ী কাজ করতে হবে। না হলে আগামী দিনে বাঁধ থাকবে না গোপালপুরও থাকবে না।
এবিষয়ে মালদহ জেলা সেচদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক বলেন, জল কমলে এধরনের ভাঙন স্বাভাবিকভাবেই হয়ে থাকে। আমরা নজরদারি রেখেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা হবে।