নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জিএসটির পর এবার ইপিএফ? সম্ভবত ‘দীপাবলির উপহার’ হিসেবে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের (ইপিএফ) এটিএম কার্ড আনতে চলেছে মোদি সরকার। সরকারি সূত্রে খবর, এটিএম কার্ডের সঙ্গেই চালু করা হতে পারে কর্মী পিএফের ইউপিআই পরিষেবা। অর্থাৎ, শর্তসাপেক্ষে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই ইপিএফে প্রয়োজনীয় লেনদেন করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা। এর আগে মন্ত্রক ঘোষণা করেছিল, মে-জুন মাসের মধ্যে ইপিএফের এটিএম কার্ড এবং ইউপিআই পরিষেবা চালু হবে। কিন্তু সেই ‘লক্ষ্যমাত্রা’র পর ৩ মাস কেটে গেলেও এই ব্যাপারে পদক্ষেপ করতে পারেনি মোদি সরকার। সরকারি সূত্রে খবর, প্রযুক্তিগত জটিলতায় যাবতীয় প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছে। তবে দীপাবলির মধ্যেই এই নয়া গ্রাহক পরিষেবা চালু করে দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রক সূত্রে খবর, ইপিএফের এটিএম পরিষেবা চালু হলেও টাকা তোলার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারিত হবে। এর পরিমাণ কত হবে, সেই ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইউপিআই পরিষেবার ক্ষেত্রেও ইপিএফ লেনদেনে ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি, ইপিএফ গ্রাহক যে ব্যাঙ্কের পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তার এটিএম কিয়স্ক থেকেই শর্তসাপেক্ষে প্রভিডেন্ট ফান্ডের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলতে পারবেন। আপাতত এমনই দিশানির্দেশ স্থির করেছে শ্রমমন্ত্রক।
ইপিএফের এটিএম কার্ড হোক বা ইউপিআই পরিষেবা—উভয় ক্ষেত্রেই গ্রাহকের ইউএএন (ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর) সক্রিয় থাকতে হবে। আধার সংযোগও থাকতে হবে। জানা যাচ্ছে, ইপিএফও ৩.০ ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এটিএম কার্ড এবং ইউপিআই পরিষেবা চালু করতে চলেছে মোদি সরকার। ফলে অনলাইন ক্লেম এবং যে কোনও পরিবর্তনের পদ্ধতি কর্মী পিএফ গ্রাহকদের জন্য আরও সহজ হবে। পাশাপাশি, ডেথ ক্লেমের ক্ষেত্রেও বিশেষ কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের পরিবারের সদস্যদের।
শ্রমমন্ত্রকের আওতাধীন কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন সূত্রে জানানো হয়েছে, যদি ‘নমিনি’ নাবালক বা নাবালিকা হয়, তাহলেও প্রক্রিয়া অনেক সরল করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে টাকা পাওয়ার জন্য ওই ‘মাইনর’কে কোনও অভিভাবকের শংসাপত্র দেখাতে হবে না। ন্যূনতম প্রমাণেই প্রক্রিয়া শেষ হবে।