নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্ৰাম শহরের বুক চিরে চলে গিয়েছে ৫ নম্বর রাজ্য সড়ক। শহরের যাতায়াতের লাইফ লাইন এই পথ। শহরে বিভিন্ন মোড়ে ব্যস্ত সময়ে যানযটে যান চলাচল থমকে যায়। দীর্ঘদিন ধরে সঙ্কীর্ণ রাস্তা সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে। লোধাশুলি মোড়, দহিজুড়ি হয়ে বিনপুর -১ ব্লকের বেলাগেড়িয়া পর্যন্ত ওই রাজ্য সড়ককে জাতীয় সড়কে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু রাস্তার সম্প্রসারণে কলাবণী জঙ্গলের গাছ কাটার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন পরিবেশ কর্মীরা।
রাজ্যে পালাবদলের পরে ক্ষমতায় আসীন হয়ে বিজেপি শিল্পোন্নয়ন প্রসারের উদ্যোগ নিয়েছে। সড়কপথে যোগাযোগ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের লোধাশুলির উপর দিয়ে ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়ক চলে গিয়েছে। মধ্য ও পশ্চিম ভারতের সঙ্গে বাংলার যোগাযোগে অন্যতম রাস্তা। ঝাড়গ্রাম শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া পাঁচ নম্বর রাজ্য সড়ক একদিকে জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আবার অন্যদিকে বিনপুর - ১ ব্লকের দহিজুড়ি , বেলাগেড়িয়া ,বাঁকুড়া, দুর্গাপুরের যোগাযোগেরও মূল রাস্তা। প্রশাসন সূত্রে খবর, ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে দুর্গাপুর ও আসানসোল শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ বাড়তেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ নম্বর রাজ্য সড়কের সম্প্রসারণের কাজ থমকে রয়েছে। রাস্তা সম্প্রসারণ না হওয়ায় জেলা শহরের কোর্ট রোড সংলগ্ন মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ার কাজ শুরু করা যায়নি। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে এলে সম্প্রসারণের কাজের গতি বাড়বে। শিল্পাঞ্চল দুর্গপুর ও আসানসোলের সঙ্গে যোগাযোগে ঝাড়গ্রামেও শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। জেলা শহরের রাজ কলেজ থেকে জমাদা মোড় পর্যন্ত রাস্তা সঙ্কীর্ণ। শহরের উড়ালপুল সংলগ্ন রাস্তার একদিকে একাধিক ছোটো দোকান রয়েছে। লোধাশুলি থেকে ঝাড়গ্রাম শহরে আসার রাস্তার দু'পাশে রয়েছে কলাবনীর জঙ্গল।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, পরিবেশ রক্ষা করেই জাতীয় সড়কের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। জামবনীর সেবা ভারতী মহাবিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রণব সাহু বলেন, জাতীয় সড়ক করার আগে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যায়ণ জরুরি। পাঁচ নম্বর রাজ্য সড়কের দু’পাশে কলাবণী, মালাবতী, সিমলিপাল ছাড়াও বেশ কয়েকটি জঙ্গল রয়েছে। অদিবাসীরা এখানে বাস করেন। হাতির করিডোর রয়েছে এখানে। দীর্ঘমেয়াদে জেলার মানুষ কতটা উপকৃত হবেন তাঁর মূল্যায়ন প্রয়োজন।