নিতাই সাহা, সিউড়ি: সারা বছরের অপেক্ষার শেষ। আজ, মহালয়ায় পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের শুরু হল। উমার আরাধনায় মেতে উঠবে আট থেকে আশি। আজ বিশেষ এই দিনটিতে সাতসকালে সর্বত্র তর্পণের দৃশ্য নজরে আসবে। কোথাও গঙ্গাঘাট তো আবার কোথাও স্থানীয় নদীতে নেমে পিতৃপুরুষের উদেশে জল নিবেদন করবেন আপামর রাজ্যবাসী। রবীন্দ্র কর্মতীর্থ লালমাটির জেলা বীরভূমের প্রতিটি ব্লকেও সেই চিত্র ফুটে উঠবে। জেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া অজয়, ময়ূরাক্ষী, দ্বারকা সহ বিভিন্ন নদ-নদীতে তর্পণের দৃশ্য নজরে আসবে। বিশেষ দিনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনও আগেভাগেই প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে। বিভিন্ন নদীঘাটে পুলিশের তরফে চলবে কড়া নজরদারিও।
মহালয়া মানেই পুজোর কাউন্ট-ডাউন শেষ। অপেক্ষা শুরু হয় মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর বোধনের। এরপরই প্যান্ডেল হপিংয়ের পালা শুরু। তবে, আট থেকে আশির মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দেখার পর্বে কোন পুজো সেরা হবে তা অবশ্য সময়ই বলবে। যদিও দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে জেলার সদর শহর সিউড়ির একাধিক পুজো উদ্যোক্তারা থিমের লড়াইয়ে জয়ের শিরোপা পেতে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। বলাবাহুল্য, একপ্রকার শেষ মূহূর্তের প্রস্তুতি চলছে শহরের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে। একে অপরকে টেক্কা দিতে দক্ষ শিল্পীদের চিন্তাশক্তির উপর ভর করে চলছে শেষ মূহূর্তের মণ্ডপসজ্জার কাজ। কোথাও আবার প্রতিমায় শেষ তুলির টান পড়ছে। ষষ্ঠীর আগেই সিউড়ি শহরে থিমের লড়াই একপ্রকার জমজমাট।
সিউড়ি চৌরঙ্গি সর্বজনীনের পুজো এবছর ৪৬ বর্ষে পা দিল। এবছরের থিম বাঙালিয়ানা। মূলত বাঙালি সহ বাংলা ভাষার গুরুত্ব ও অবদান কী তা তুলে ধরতেই এই থিমের আয়োজন করা হয়েছে। তোড়জোডে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। পিছিয়ে নেই হাটজনবাজার কলোনি সর্বজনীন দুর্গোৎসব। এবছর দক্ষিণ ভারতের একটি শিব মন্দিরের আদলে মণ্ডপ সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। সেইসঙ্গে নজর কাড়বে ডাকের সাজের প্রতিমা। আনন্দপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজো সমিতির পুজোও এবছর নজর কাড়তে চলেছে। এবছর যোধপুরের একটি জৈন মন্দিরের আদলে সেজে উঠবে পুজো মণ্ডপ। প্রতিমায় থাকবে সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। এছাড়াও পুজোর সময় বসবে মেলার আসরও। পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে দর্শনার্থীর ভিড় টানার প্রতিযোগিতা চলছে। এক পুজো উদ্যোক্তা বলেন, বৃষ্টির জন্য এবার মণ্ডপ তৈরিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। তবে তারমধ্যেই শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে।
সব মিলিয়ে জেলার সদর শহর সিউড়ির দুর্গোৎসব জমে উঠতে চলেছে। সেক্ষেত্রে এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। চলছে একেবারে শেষ মূহূর্তের কাউন্টডাউন।