নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দিনের পর দিন ধরে স্বরূপনগরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পড়ে রয়েছে ইমারতি সামগ্রী। কেউবা আবার পিচের রাস্তার উপরেই সিমেন্ট-বালি মেশানোর কাজ করছেন। ফলে, বেহাল হয়ে পড়ছে বিভিন্ন রাস্তা। এমনকী পূর্তদপ্তরের জায়গাও বেআইনিভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। স্বভাবতই পথচলতি মানুষের আশঙ্কা, যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ নিয়ে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ আঁচ করে দ্রুত পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে প্রশাসন। চলছে মাইকিং।
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা বলে পরিচিত স্বরূপনগর ব্লক। এই ব্লকের বালতি, নিত্যানন্দকাটি, গোবিন্দপুর, স্বরূপনগর সাঁড়াপুল, কৈজুরি, গোপালপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সদ্য দেওয়া হয়েছে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের টাকা। এই ব্লকে ৪ হাজার ৫০৯ জন উপভোক্তা বাড়ি তৈরির টাকা পেয়েছেন। তার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার পরিবার বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। এই কাজ নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই কাজের জন্য উপভোক্তা থেকে শুরু করে ইমারতি সামগ্রীর ব্যবসায়ীরা রাস্তায় ইট, বালি ফেলে রাখছেন। ফলে রাস্তার অনেকটাই দখল হয়ে অপরিসর হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেকেই রাস্তার উপর সিমেন্ট-বালি মেখে মশলা তৈরি করছেন। ফলে রাস্তার গুণগতমানও কমে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ চললেও হুঁশ ছিল না প্রশাসনের। তবে বুধবার টনক নড়েছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ, বিভিন্ন সড়কের পাশে পূর্তদপ্তরের জায়গা দখল করে দিনের পর দিন নির্মাণকাজ হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার কথা বললেও সেই নির্দেশ কাগজ-কলমেই থেকে গিয়েছে। ফলে, মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ মণ্ডল বলেন, এখন নতুন কিছু নয়। মাসের পর মাস রাস্তার ধারে এভাবেই ইমারতি সামগ্রী ফেলে রাখা হচ্ছে। যে কারণে গোটা রাস্তাই সঙ্কীর্ণ হয়ে গিয়েছে। স্বরূপনগরের মূল সড়কের পাশের জায়গা দখল হয়ে গিয়েছে। তারপরেও যেভাবে সামগ্রী রাখা হচ্ছে, তাতে করে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আরেক বাসিন্দা সিরাজ আলি বলেন, সাইকেল বা বাইকে প্রাণ হাতে নিয়ে চলতে হচ্ছে। রাস্তার দু’ধারেই পড়ে থাকছে ইট, বালি, স্টোন চিপসের পাহাড়। একটি গাড়ি গেলে উল্টোদিক থেকে অন্য গাড়ি আসতে পারে না। এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। বুধবার পুলিস ও প্রশাসন রাস্তা থেকে ইমারতি সামগ্রী সরিয়ে মাইকিং শুরু করেছে। বিডিও বিষ্ণুপদ রায় জানিয়েছেন, সরকারি জমি থেকে সামগ্রী সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।