বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: বজবজ শহরের পশ্চিম প্রান্তে গঙ্গার স্রোতধারা উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে গিয়েছে। তার গা ছুঁয়ে নদীবাঁধের উপর বাঁধানো পাকা ঝকঝকে মন্দির। তার ভিতর বসে রয়েছেন সাদা আর নীলচে পাথর দিয়ে তৈরি কালী। মুখজুড়ে সদা হাস্যময় প্রশান্তি। এখানে কালীর এই ভুবনভোলানো রূপের জন্য রাজরাজেশ্বরী হিসাবে তিনি পরিচিত। সেইভাবেই তাঁর পুজো হয়।
কালীপুজোর বেশি দেরি নেই। এখন রাজরাজেশ্বরীর আরাধনার প্রস্তুতি নিয়ে মেতে পুরোহিত, সেবায়েত ও স্থানীয়রা। কালীকে কিভাবে সাজানো হবে, কি শাড়ি পরানো হবে, কত ফুল লাগবে তার তালিকা তৈরি চলছে। মন্দির ও রাস্তা আলো দিয়ে সাজানোর আলোচনা চলছে। থানা লাগোয়া পুজো বলে আবাসনে থাকা পুলিস কর্মীদের পরিবার এর সঙ্গে যুক্ত। থানার সিভিক কর্মীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে এসে কাজ করেন। তাঁরাও অবসর সময় মন্দিরে আসেন। এক সিভিক বলেন, মন্দিরে এসে কেউ মায়ের মুখ দর্শন করলে তাঁকে ফের আসতে হয়, এমনই আকর্ষণ রাজরাজেশ্বরীর। মন্দিরে এসে যা মানত করা হয়, তা পূরণ হয়। মন্দিরের এক সেবায়েত বলেন, অনেকদিন ধরে এখানে কালী পুজো হচ্ছে। একসময় স্থায়ী মন্দির ছিল না। প্রতিবছর স্থানীয় লোকজন পুজোর আগে চাঁদা তুলে মাটির কালী মূর্তি তৈরি করতেন। মণ্ডপ তৈরি করে পুজো হত। দু’বছর আগে ভক্তদের সহায়তা নিয়ে এক শিল্পী পাথর কেটে রাজরাজেশ্বরীর মূর্তি করেন। শিল্পী বলেছিলেন, যতদিন যাবে মূর্তির রূপের জৌলুস বাড়বে। এখানে পুজোতে নিয়ম-নিষ্ঠার উপর জোর দেওয়া হয়। মন্দিরের বাইরে আলপনা দেওয়ার কাজ চলছে এখন। আলোকসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে। পুজোর দিন রাতে স্থানীয়দের ও অতিথিদের প্রসাদ খাওয়ানোর রীতি।



