অভিষেক পাল, কল্যাণী: হরিণঘাটায় ভোটের শেষ লগ্নে তৃণমূলের প্রচারে কার্যত ঝড় তুললেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জাগুলির ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন ময়দানে সোমবার ছিল তাঁর জনসভা। সেখানে বক্তব্য রাখার সময় কর্মী-সমর্থকদের তুমুল জয়ধ্বনি ও উচ্ছ্বাসে কিছুক্ষণের জন্য বক্তৃতা থামিয়ে দিতে হয় অভিষেককে।
মঞ্চে ওঠার পর একাধিকবার তৃণমূলের হরিণঘাটা বিধানসভার নির্বাচনি কমিটির চেয়ারম্যান চঞ্চল দেবনাথের সঙ্গে আলোচনা করেন অভিষেক। পাশাপাশি রানাঘাট দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবাশীষ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে নির্বাচনি কৌশল নিয়ে কথা বলেন। এদিনের সভা ছিল তৃণমূল প্রার্থী চিকিৎসক রাজীব বিশ্বাসের সমর্থনে।
সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, সাধারণত প্রচারের শেষদিনে আমি আমার ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের বাইরে যাই না। তারপর হরিণঘাটার প্রার্থী রাজীবকে পরিবারের সদস্য বলে উল্লেখ করে বলেন, আমি যদি এখানে না আসতাম তাহলে প্রচার অসম্পূর্ণ থেকে যেত। তিনি জানান, গত ১০ বছরে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। এরপর হরিণঘাটার ভোটারদের আবেদন জানিয়ে বলেন, রাজীবকে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতিয়ে দিন। এই বিধানসভাকে আমি বুক দিয়ে আগলে রাখব। রাজীব আমাদের সেবাশ্রয় ক্যাম্পের দায়িত্বশীল সদস্য। এরপর বলেন, হরিণঘাটার মানুষ আর তৃণমূলের মধ্যে একটা দেওয়াল কেউ কেউ তুলে দিয়েছিল। সেই দেওয়াল আমি আজকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে গেলাম। আজ থেকে আপনাদের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। জেতার ব্যবধানের নিরিখে হরিণঘাটাকে নদীয়ার মধ্যে এক নম্বর করুন। যাতে ফলাফল ঘোষণার পর হরিণঘাটার মাটিতে বিজেপির ঝান্ডা ধরার লোক না থাকে। সবশেষে তিনি বলেন, একটা বিষয় আমি মোদীজির সঙ্গে একমত। তিনি বলেছেন পাল্টানো দরকার। আমিও বলছি হরিণঘাটায় পাল্টানো দরকার। এখানে বিধায়ক, সাংসদ বিজেপি। কিন্তু কাজ করেছে তৃণমূল।