


সন্দীপন দত্ত, মালদহ: ভোট আসে ভোট যায়, অথচ আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জল প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয় না। উলটে শহরবাসীর কাঁচে জলকরের বোঝা চাপিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ইংলিশবাজার পুরসভা। বাড়ি বাড়ি প্রচারে ইংলিশবাজারের সিপিএম প্রার্থী অম্বর মিত্র এখন এভাবেই বেহাল পুর পরিষেবাকে হাতিয়ার করছেন।
কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ইংলিশবাজারে পঁচিশ বছর আগে সমর রায়ের হাত ধরে শেষবার জিতেছিল সিপিএম। তার আগে ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বিমল কান্তি দাস, শৈলেন সরকাররা এখান থেকে জিতেছেন।
শূন্যের শাপমোচন ঘটিয়ে ফের ইংলিশবাজারে লাল আবির উড়বে বলে আশাবাদী অম্বররা। কিন্তু মুখের কথায় তো আর ভোটে জেতা যায় না। তাই লাল পার্টির স্ট্র্যাটেজি ‘বেহাল পুর পরিষেবা’।
সিপিএমের কাছে ২০২৬ এর বিধানসভা ভোট কার্যত অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। গত বিধানসভায় শূন্য হয়ে যাওয়া দলের কাছে একটি আসন জেতা মানেই হাতে চাঁদ পাওয়ার সমান। সেই লক্ষ্যেই নিজের পঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবার প্রার্থী হয়েছেন অম্বর। মালদহ জেলা কমিটির তিনবারের সম্পাদক এই নেতা বরাবরই সংগঠন সামলে এসেছেন। এক সময় যাঁর হাত ধরে একের পর এক নেতা-বিধায়ক তৈরি হয়েছে, আজ তিনিই সরাসরি ভোটের ময়দানে।
ষাটোর্ধ্ব অম্বরের শরীরে ছিটেফোঁটা ক্লান্তি নেই। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে একই উদ্যমে প্রচার করে চলেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ইংলিশবাজার শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অলিগলিতে বাড়ি বাড়ি যান অম্বর। বলেন, নদীর জল পরিশ্রুত এবং আর্সেনিক মুক্ত করে অর্থাৎ সার্ফেস ওয়াটার বাড়ি বাড়ি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিনের। কোটি কোটি টাকা খরচ করে পাইপলাইনও পাতা হয়েছে। কিন্তু কুমিরের ছানা দেখানোর মত তৃণমূল প্রতিবার ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেয়। আজও মালদহের মানুষ আর্সেনিকমুক্ত জল পায়নি।
সিপিএম প্রার্থীর অভিযোগ, ইংলিশবাজার পুরসভা জনগণের ঘাড়ে জলকর চাপিয়েছে। শহরে বাড়ি পিছু প্রতিদিন এক টাকা জঞ্জাল কর আদায় করে পুরবোর্ড। শহরের বুকে একটা মুরগির খামারের দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিপুল মানুষকে। গা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া মহানন্দা নদী পরিচ্ছন্নতার অভাবে নর্দমায় পরিণত হয়েছে।
পুর চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর পালটা বলেন, উনি কালো চশমা পরে ঘুরছেন আর জনগণকে ভুল বোঝাচ্ছেন।
সিপিএম প্রার্থীর দাবি, সমস্যা যে শুধুমাত্র শহরেই সীমাবদ্ধ,তা নয়। তিনি ইংলিশবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পুরনো সমস্ত আম বাগান কেটে সবুজ ধ্বংস করে জমি ব্যবসায়ীরা প্লটিং করছে।