নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল এক মহিলা আইনজীবীর। আলাপ থেকে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দুজনে। সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মুদিত আগরওয়াল বিয়ের টোপ দিয়ে মানিকতলা থানা এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণীকে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারিনী অভিযোগ জানাতেই বেপাত্তা হয়ে যায় ওই যুবক। দু’মাস বেপাত্তা থাকার পর অবশেষে রবিবার তাকে দিল্লি থেকে পাকড়াও করল মানিকতলা থানা। তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে প্রোফাইল রয়েছে। ২০২৪’এর শুরুতেই মুদিত আগরওয়াল নামে এক যুবক তাঁকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠান। অভিযোগকারিনী তা গ্রহণ করার পর প্রথমে মেসেঞ্জারে কথা চলত। ওই সময় মুদিত জানান, তিনি একটি নামী আইটি সংস্থার কর্মী। বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে রয়েছেন। কলকাতায় তাঁর আদি বাড়ি। বেশ কিছুদিন কথাবার্তা চলার পর মোবাইল নম্বর আদানপ্রদান হয়। জানা যাচ্ছে নিয়মিত দুজন কথাবার্তা বলতেন। সেখান থেকেই প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই যুবক জানান, তাঁর পরিবারে বিয়ের কথা চলছে। তরুণীর বিষয়ে বাড়ির লোকজনকে জানিয়েছেন। তরুণীকেই তিনি বিয়ে করবেন। এরপর অভিযোগকারিণীকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যান অভিযুক্ত। বেঙ্গালুরু, দিল্লি, রাজস্থান সহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়ান। এমনকী মাঝেমধ্যেই ওই তরুণীকে বেঙ্গালুরুতে ডেকে পাঠাতেন। অভিযোগ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ওই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত। অভিযোগকারিনীর দাবি, তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে মুদিত বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। তরুণী এরপর অভিযুক্তকে বারবার বিয়ে নিয়ে কথা বলা শুরু করলে, চলতি বছরের মার্চ থেকে মুদিত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। অভিযোগকারিণীর মোবাইল ব্লক করে দেওয়া হয়। তখনই তরুণী বুঝতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে মানিকতলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ হয়েছে জানতে পেরে কলকাতা ছাড়েন অভিযুক্ত। বেঙ্গালুরু, দিল্লি সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সেই সঙ্গে বদলে ফেলেন মোবাইল সেট ও নম্বর। যে কারণে তাঁকে ‘ট্রেস’ করা যাচ্ছিল না। কয়েকদিন আগে পুলিসের কাছে খবর আসে, মুদিত দিল্লিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছে। সেইমতো টিম দিল্লি পৌঁছে রবিবার তাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতায় নিয়ে আসে।