Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সব ব্রিজের নীচ থেকে সরবে দখলদারি, সরকারি নির্মাণও

শহরের সবক’টি উড়ালপুলের নীচ থেকে সমস্ত ধরনের স্থায়ী ও অস্থায়ী নির্মাণ সরানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

সব ব্রিজের নীচ থেকে সরবে দখলদারি, সরকারি নির্মাণও
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: শহরের সবক’টি উড়ালপুলের নীচ থেকে সমস্ত ধরনের স্থায়ী ও অস্থায়ী নির্মাণ সরানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সেই মতো পদক্ষেপও শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ফ্লাইওভারের নীচে থাকা দোকানপাটসহ অন্যান্য নির্মাণ সরিয়ে ফেলার নোটিস দেওয়া হচ্ছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, উড়ালপুলের ‘সেফটি’ এবং ‘সিকিউরিটি’র কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। এমনকি, ফ্লাইওভারের নীচে কোনো সরকারি অফিস বা নির্মাণ থাকলে তাও সরিয়ে নেওয়া হবে। এর ফলে নিয়মিত ওভারব্রিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা যেমন সম্ভব হবে, তেমনই সহজ হবে রক্ষণাবেক্ষণ।  

Advertisement

ইতিমধ্যে শিয়ালদহ বিদ্যাপতি সেতু, যাদবপুরের সুকান্ত সেতু, ঢাকুরিয়া ব্রিজ, গড়িয়াহাট ফ্লাইওভার, কুঁদঘাটে মেট্রো করিডরের নীচের অংশের অবৈধ দখলদার সরাতে নোটিস দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। এলাকায় মাইকিং করেছে পুলিশ। জায়গা খালি করে সরে যাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে এক সপ্তাহ। অন্যথায় হবে উচ্ছেদ। পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, উড়ালপুলের নীচে আর কোনোরকম দখলদারি বরদাস্ত করা হবে না। নবান্ন থেকে তেমন বার্তাই এসেছে। কারণ, উড়ালপুলের নীচে কেউ বসবাস করলে বা বাজারহাট চললে বিভিন্ন প্রয়োজনে আগুন জ্বালানো হয়। সেই আগুনে ক্ষতি হয় ফ্লাইওভারের। উদাহরণ দিয়ে এক পুর-আধিকারিক বলেন, ‘এটাই ঘটেছিল নিউ আলিপুরে দুর্গাপুর ব্রিজের তলায় ঝুপড়িতে আগুন লাগার পর। সেই আগুনে উড়ালপুলের ক্ষতি হয়েছিল।’ তাঁর মতে, ব্রিজের নীচের অংশ দখল হয়ে থাকলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজগুলি করা যায় না। অথচ সেতুগুলির বয়স হচ্ছে। সংস্কারের প্রয়োজন। না হলে সেতু ভেঙে পড়ে বড়ো দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এসব দিক মাথায় রেখেই শহরের সমস্ত উড়াপুলের নীচ থেকে দখলদার হটাতে ঝাঁপাচ্ছে পুরসভা এবং পুলিশ।  শহরের কোনো ওভারব্রিজের নীচেই আর কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী নির্মাণ থাকবে না। 
শিয়ালদহে বিদ্যাপতি সেতুর নীচে রয়েছে কয়েক দশকের পুরানো শিশির মার্কেট। সুকান্ত সেতুর নীচে যাদবপুরে রয়েছে হকার্স মার্কেট। উল্টোডাঙার ওল্ড দুর্গাপুর ব্রিজ কিংবা ঢাকুরিয়া ব্রিজের নীচেও বহু বছর ধরে ফুটপাতবাসীরা থাকছেন। নোটিস পাওয়ার পর ইতিমধ্যে সেখান থেকে বাসিন্দারা সরতেও শুরু করেছেন। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘একে শুধুমাত্র উচ্ছেদ হিসাবে দেখলে হবে না। কারণ, শুধু অবৈধ দখলদারদের সরানো হচ্ছে, এমন নয়। উড়ালপুলের নীচে যেখানে কলকাতা পুলিশ বা ট্রাফিক গার্ডের অফিস রয়েছে, সেগুলিও সরানো হবে। পুরসভার সুলভ শৌচালয় বা অন্য কোনো সরকারি অফিস থাকলে তাও সেতুর নীচ থেকে স্থানান্তর করা হবে।’ 
জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে তারাতলায় ফ্লাইওভারের নীচ থেকে কলকাতা পুলিশের একটি অফিস সরানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্ট্র্যান্ড রোডে ওভারব্রিজের নীচ থেকেও পুরসভার জঞ্জাল বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের অফিসঘর সরানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে খবর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ