


অভিষেক পাল, বহরমপুর: পদ্মের ‘রামরাজত্ব’ চায় না মুর্শিদাবাদ। শেষবেলার প্রচারে বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে এমনটাই বললেন তৃণমূল প্রার্থীরা। কান্দির অপূর্ব সরকার, বহরমপুরের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়রা বলেন, গত পাঁচবছরে সারা দেশে ২লক্ষ ৪০হাজারের বেশি কারখানা বন্ধ হয়েছে। পাঁচবছরে ৭৫হাজার এমএসএমই বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বন্ধ হয়েছে। শুধু গতবছরেই বন্ধ হয়েছে ৩৫হাজার কারখানা। শেষদিনের প্রচারে শাসকদলের প্রার্থীরা এমন ইস্যু তুলে ধরলেন যে, বিজেপি প্রার্থীরা পালটা বলার জায়গা পেলেন না।
রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ২০২৪-২৫অর্থবর্ষে মহারাষ্ট্রে ৮৪৭২টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। তামিলনাডুতে ৪৪১২, গুজরাতে ৩১৪৮টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। রাজস্থানে ২৯৮৯ ও কর্ণাটকে ২০১০টি শিল্প ও কারখানা বন্ধ হয়েছে। লক্ষ লক্ষ যুব বেকার হয়েছেন। তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে ১৫৪৮টি এমএসএমই শিল্প বন্ধ হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশে শ্রমজীবী মানুষের ৯০শতাংশই অসংগঠিত বা ইনফরমাল সেক্টরে কাজ করে। এর মধ্যে ৫৭শতাংশের বেশি স্বনিযুক্ত। ১৮শতাংশ বেতনহীন শ্রমিক হিসাবে পারিবারিক কোনো উৎপাদনে কাজ করেন। বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকের ৪২ শতাংশই চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করছেন। ‘গিগ’ শ্রমিক অর্থাৎ নানা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের হয়ে কোনোরকম চুক্তি বা শ্রমিকের স্বীকৃতি ছাড়া কর্মরত মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বিজেপি সরকারকে কোনো সক্রিয় পদক্ষেপ করতে দেখা যাচ্ছে না।
আরও উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান হল, দেশে বেকারত্বের হারে সবচেয়ে এগিয়ে শহরাঞ্চলের ১৫-২৯বছর বয়সী যুবসমাজ। দেশে যখন ৬-৭ শতাংশ বেকার দেখানো হয়, সেসময় শহরে যুবক-যুবতীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৬ শতাংশের বেশি।
কান্দির তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব সরকার(ডেভিড) প্রচারে বলেন, লোকসভায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পমন্ত্রী জিতনরাম মাঝি নিজেই জানিয়েছিলেন, ২০২২-২৩ সালে মহারাষ্ট্রে এমএসএমই শিল্পে ৫৪,০৫৩জন শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। তামিলনাডুতে ৪৩,৩২৪, উত্তরপ্রদেশে ৩৩২৩০ ও গুজরাটে ২২৩৪৫ জন ছাঁটাই হয়েছেন। গত ১০বছরে আরও ৫০হাজার কারখানা বন্ধের ফলে তিন লক্ষ শ্রমিকের কাজ হারানোর কথা সংসদে স্বীকার করেছেন মন্ত্রী।
বহরমপুরের তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপালবাবু বলেন, সেনাবাহিনীতে স্থায়ী নিয়োগ নিয়ে গর্ব করা হত। এখন স্থায়ী নিয়োগ তুলে দিয়ে, গালভরা ‘অগ্নিবীর’ নাম দিয়ে মাত্র চারবছরের মেয়াদে চাকরির ব্যবস্থা করেছে মোদি সরকার। অথচ বিজেপির নির্বাচনি প্রচারে রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থানের টোপ দেওয়া হচ্ছে। সবটাই ভাঁওতা। কর্মসংস্থানে সদিচ্ছা থাকলে এতদিন ডাকবিভাগ, রেল ও কেন্দ্রের এসএসসিতে লাগাতার নিয়োগ হত। রাজ্য সরকার এমএসএমই থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র শিল্প তৈরিতে দেশের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বহু বেকার যুবক সরকারি ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করছেন। গত কয়েকবছরে রাজ্য পুলিশে প্রচুর নিয়োগ হয়েছে। আগামী দিনে অন্য শূন্যপদেও নিয়োগ হবে।
বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, তৃণমূল কর্মসংস্থান নিয়ে আর কী বলবে? এখানে বছরে ক’টা চাকরি হয়? বাংলার ছেলেমেয়েরা ভিনরাজ্যে কাজে যাচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। অধিকাংশই বিজেপিশাসিত রাজ্যে। এখানে বিজেপি এলে আগে কর্মসংস্থানে জোর দেওয়া হবে।