


বিশেষ সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: ১৯ সেপ্টেম্বর। নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে সিঙ্গাপুরে গিয়ে রহস্যমৃত্যু হয় জুবিন গর্গের। অর্থাৎ, জুবিনবিহীন অসম আজ ৭৪ দিনে পড়ল। কিন্তু তিনি এখনও বেঁচে অসমবাসীর মনে। প্রাণপ্রিয় ‘জুবিনদা’কে তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়েই বাঁচিয়ে রেখেছেন অনুগামীরা। অসমজুড়ে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে মানুষের হৃদয়ে, বাড়িতে, রাস্তার মোড়ে, গাড়ির ভিতর বেজে চলেছে জুবিনের গান। তাঁর সৃষ্ট ‘মায়াবিনী’ যেন এখন অসমের প্রাণের স্পন্দন। এখনও তাঁর শেষকৃত্যস্থলে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হচ্ছেন। চোখের জল ফেলছেন। পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তিনি সকলের মনে রয়ে গিয়েছেন একই ছন্দে।
জুবিনকে নিয়ে অসমবাসীর আবেগ ইতিমধ্যেই দেখেছে বিশ্ববাসী। সম্প্রতি আরও এক ঘটনা সামনে এল। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন অর্থাৎ স্পেশাল রিভিশনের (এসআর) দায়িত্বে থাকা বিএলও ভোটার তালিকা থেকে জুবিন গর্গের নাম বাদ দেওয়ার পরিবর্তে তাঁর নামের পাশে লিখে দেন, ‘আপনি অমর, আমাদের মধ্যেই থাকবেন চিরকাল। আপনার আত্মা চিরশান্তিতে থাকুক’।
নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে এসআর শুরু হয়েছে অসমে। সেই কাজে যুক্ত বিএলও তাফিজুদ্দিন আহমেদ গিয়ে পৌঁছোন গুয়াহাটির কাহিলিপাড়ায়। সেখানেই বাড়ি প্রয়াত শিল্পী জুবিন গর্গের। ভোটার তালিকা মেলাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে
পড়েন তিনি। ভোটার তালিকায় জুবিন গর্গের নামের পাশে ‘মৃত’ লিখতে থমকে যায় তাঁর লাল কালির কলম। কারণ, গোটা অসমের মতো তাঁর মনেও যে বেঁচে প্রিয় জুবিনদা। তাই জুবিন গর্গের নাম বাদ দেওয়ার পরিবর্তে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। লিখে দেন তাঁর আবেগঘন বার্তা। জুবিন গর্গের বোন পামী বরঠাকুর সমাজমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। বিএলও তাফিজুদ্দিনের এই আবেগঘন অনুভূতি নিমেষে সকলের মন ছুঁয়ে যায়। জুবিন ও তাঁর পরিবারের ভোটার তালিকার ছবি সহ পামী বরঠাকুর লেখেন, ‘এই ভালোবাসাই আমাদের সাহস। আমরা কৃতজ্ঞ তাফিজুদ্দিন দাদা’।