৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বকেয়া টাকা না মেটালে  জরুরি পরিষেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি কর্মীদের
  • ২২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত বকেয়া না মেটালে শহরে জঞ্জাল সাফাই ও পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে এবার হুঁশিয়ারি দিলেন জলপাইগুড়ি পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। বকেয়া পাওনাগন্ডার দাবিতে গত পাঁচদিন ধরে পুরসভার গেট আটকে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন পেনশনার্সরা। ফলে কোনো কর্মী-আধিকারিক পুরসভায় ঢুকতে পারছেন না। স্বাভাবিকভাবেই হচ্ছে না কাজকর্ম। এরই মধ্যে অস্থায়ী কর্মীরা জঞ্জাল সাফাই ও পানীয় জল সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় জলপাইগুড়ি পুরসভা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা। এই অচলাবস্থা কাটাতে আগামী সপ্তাহেই পুরসভায় প্রশাসক বসতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। 

Advertisement

গত বুধবার রাজ্যের পুরদপ্তরের পক্ষ থেকে জলপাইগুড়ি পুরসভার বর্তমান বোর্ডকে শোকজ করে পাঁচদিনের মধ্যে রাজ্যকে রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে যদি পুরবোর্ডের তরফে রাজ্যের কাছে সময়ে রিপোর্ট জমা না পড়ে, তাহলে আগামী মঙ্গল কিংবা বুধবারের মধ্যে পুরসভায় প্রশাসক বসিয়ে দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর। যদিও প্রশাসক বসানোর সুযোগ দিতে নারাজ মমতাপন্থী তৃণমূল কাউন্সিলাররা। অনাস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠক ডাকতে আজ, শনিবারই নোটিস দিতে চলেছেন তাঁরা। 
জলপাইগুড়ি সাফাইকর্মী একতা মঞ্চের সভাপতি প্রতাপ রাউত বলেন, বকেয়া বেতনের দাবিতে অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মীদের সঙ্গে পাঁচদিন ধরে পুরসভার গেট আটকে অস্থায়ী কর্মীরা আন্দোলন করছেন। বৃহস্পতিবার পেনশনার্সদের একমাসের বকেয়া পেনশন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অস্থায়ী কর্মীরা জুলাই মাসের বেতন এখনও পাননি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত বকেয়া না মেটানো হলে জলপাইগুড়ি পুরসভার যাবতীয় কাজকর্ম বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে বন্ধ করে দেওয়া হবে জঞ্জাল সাফাই কিংবা শহরে পানীয় জল সরবরাহের মতো জরুরি পরিষেবাও। 
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা তৃণমূল কাউন্সিলার তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, এটা অস্বীকার করার নয়। কিন্তু এর জন্য একমাত্র দায়ী চেয়ারম্যান। অনাস্থায় তাঁকে সরাতে ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়ে কাউন্সিলারদের তরফে বৈঠক ডাকার নোটিস দেওয়া হবে শনিবার। এছাড়া রাজ্য সরকার জলপাইগুড়ি পুরসভার বর্তমান বোর্ডকে যে চিঠি দিয়েছে, আমরা কাউন্সিলাররা মিলে আজ, শনিবারই উত্তর সহ পুরদপ্তরে চিঠি পাঠাব।