নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘দিমাগী নকশাল’ মন্তব্যে সারা দেশে বিতর্কের ঝড় ছড়িয়েছে। এমনকি, দিমাগী নকশাল জনতা পার্টি নামে একটি সোশাল মিডিয়া পেজও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই আবহে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী হলে ছাত্রছাত্রীদের সামনে দেশের মধ্যে থাকা দেশের শত্রুদের চিহ্নিত করে নিকেশ করার আহ্বান জানালেন রাজ্যপাল আর এন রবি। মঙ্গলবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘স্মরণে আগস্ট ১৯৪৬ গণহত্যা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই বক্তব্য রাখেন তিনি।
দেশভাগ, গণহত্যা নিয়ে মুসলিম লিগকে দায়ী করে, তাদের ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করেছেন রাজ্যপাল। মোগল আমলে মন্দির ধ্বংসের প্রসঙ্গও টানেন। এও বলেন, হিন্দু বা সনাতনীরা কখনও মসজিদ ধ্বংস করেননি। তবে, বিদেশ থেকে আসা মুসলিম শাসকরা যে সনাতনী ভাবনা এবং একতায় আঘাত হানতে পারেননি, তা করেছে মুসলিম লিগ। তাদের জন্যই দেশভাগ হয়েছে। আর চাপ দেওয়ার জন্য তারা হত্যা, অত্যাচারের পন্থা বেছে নিয়েছে। তিনি পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে হিন্দুর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রসঙ্গও টানেন। উঠে আসে অপারেশন সিন্দুরের সাফল্য। তারপর দেশের মধ্যে থাকা শত্রুদের চিহ্নিত করে আলাদা করে তাদের শেষ করার আহ্বানও জানান। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘দেশের শত্রুরা সবার শত্রু। তাদের শেষ করার অধিকার সংবিধানই দিয়েছে। তবে, দেশের শত্রু চিহ্নিত করতে গেলে ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করতে হয়। সেই সময় যারা ব্রিটিশদের পা চাটত, তারাও তো দেশের শত্রু। রাজ্যপাল রাজনৈতিক ভাষণ না দিয়ে আইন, সংবিধান মেনে কথা বলবেন, এটাই কাম্য।’ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘রাজ্যপাল সাংবিধানিক পদ। তাঁর তথ্য নিয়ে কথা বলা দরকার। এসআইআরে কতজন অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ গেল? সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই কখনও আরবান নকশাল, ঘুষপেটিয়া এখন আবার দিমাগী নকশাল তকমা! মানুষ সব বুঝতে পারছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়েও এরকম অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অধ্যাপক সংগঠন কুটার সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোষ এরকম একটি বিতর্কিত বিষয়ের আলোচনাসভায় রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাসের স্বাক্ষর থাকাকে দুর্ভাগ্যজনক বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে রেজিস্ট্রারের বক্তব্য, আচার্য তথা রাজ্যপালের নির্দেশেই এই আলোচনাসভা হয়েছে। কোনও সাম্প্রদায়িক কথা রাজ্যপাল বলেননি।