নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: হাতি-উপদ্রুত পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে নির্বিঘ্নেই উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম সেমিস্টারের প্রথম পত্রের পরীক্ষা হল। দুই জেলার বিভিন্ন জঙ্গলে হাতি থাকলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখে ‘ফুল মার্কস’ পেল বনদপ্তর। তাদের ২৩টি টিম বিভিন্ন এলাকার জঙ্গলপথে পরীক্ষার্থীদের এসকর্ট করে কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছে। বনদপ্তরের এমন ভূমিকায় অভিভাবকরাও খুশি।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৭৪টি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। জেলায় ৩৬ হাজার ৫৬৮জন পরীক্ষার্থী আছে। জেলার মেদিনীপুর ও রূপনারায়ণ ডিভিশনে ৪০টি হাতি রয়েছে। সেজন্য বনদপ্তরের ২৩টি টিম জঙ্গল লাগোয়া বিভিন্ন এলাকার পরীক্ষার্থীদের এসকর্ট করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন বিভিন্ন জঙ্গল ঘিরে রেখেছিলেন বনকর্মীরা। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ডেবরা ব্লকে স্বস্তিকা গিরি নামে এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডেবরা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে বসে তিনি পরীক্ষা দিয়েছেন। স্বস্তিকা ডেবরার অর্জুনী হাইস্কুলের ছাত্রী। খড়্গপুর-২ ব্লকের তেলিপুকুর হাইস্কুলে তাঁর পরীক্ষার সেন্টার ছিল। উচ্চমাধ্যমিকের জেলা কনভেনর রামজীবন মাণ্ডি বলেন, নির্বিঘ্নে পরীক্ষা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে সবধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
মেদিনীপুরের ডিএফও শিবানন্দ রাম বলেন, ৩৮০জন পরীক্ষার্থীকে গাইড করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলায় ১৯টি প্রধান ও আটটি শাখা কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ৯০৫১জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় বসেন। ছাত্রের সংখ্যা ৪২৩৩। ছাত্রীর সংখ্যা ৪৮১৮। ১৪৬জন অনুপস্থিত ছিল। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নিতে জেলা পুলিশ, স্বাস্থ্য ও বনদপ্তর সবরকম ব্যবস্থা করেছিল। ১২০জন বনকর্মী ও অতিরিক্ত ৬০জন জঙ্গলপথে দায়িত্বে ছিলেন। ১৬টি গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষিতভাবে যাতায়াতের জন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছিল। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) শক্তিভূষণ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, প্রথমদিনের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র