সংবাদদাতা, ঝালদা: পুরুলিয়ার ঝাড়খন্ড সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে প্রায়ই হাতির তাণ্ডব লক্ষ করা যাচ্ছে। বুনো হাতির দুলকি চালে গ্রাম ঘুরে বেড়ানোয় ঝাড়খন্ড-বাংলা সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে এখন আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হওয়ার জোগাড় মানুষের। ফসলের মাঠ থেকে শুরু করে দোকানপাট সবেতেই চলছে হাতির তাণ্ডব।
বিগত কয়েক দিন ধরেই বাঘমুন্ডি রেঞ্জের একাধিক গ্রামে গজরাজের অবাধ আনাগোনা লেগে আছে। শুধু ফসলের ক্ষতিই নয়, সম্প্রতি সুইসা গ্রামে একটি দোকানে হানা দিয়ে রীতিমতো পেটপুড়ে ভোজ সারে একটি দাঁতাল। দোকানি বাসকিনাথ পাঠক জানান, গভীর রাতে দোকানে ঢুকে হাতিটি চাল, ডাল, তেল সহ যাবতীয় জিনিসপত্র সাবাড় করেছে। ওই ব্যবসায়ীর কথায়, এই ছোটো দোকানের আয়েই সংসার চলে। বনদপ্তর আর সরকারের কাছে আমার আরজি, দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাটুকু করুন।
শুধু সুইসা নয়, হেঁসলা গ্রামেও একটি আস্ত বাড়ি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসীদের মতে, খাবারের লোভে এই হাতিগুলি প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে এবং গোটা এলাকা স্থানীয় হাতিদের আস্তানায় পরিণত করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সোমবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে পুরুলিয়া বনবিভাগের আওতায় হাতির উপস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। বন দপ্তর সূত্রে খবর, আরশা রেঞ্জের উপরগুগুই মৌজায় ১১-১৩ টি হাতি রয়েছে। পাশাপাশি বাঘমুন্ডি রেঞ্জের গন্ধুডি ও ঝাড়খন্ড সীমান্তে ৪টি এবং গাগি ও ঝাড়খন্ড সীমান্তে আরও ১টি সব মিলিয়ে মোট ১৮টি হাতি এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিভাগীয় বনাধিকারিক ও পুরুলিয়া বনবিভাগের স্পষ্ট নির্দেশ, এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষকে জঙ্গলের দিকে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। সকলের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা জারি হয়েছে।
বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে আম-কাঁঠালের লোভেই জঙ্গল থেকে স্থানীয় গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাতিগুলি। তবে সব হাতি প্রায় নজরেই আছে। বনকর্মীরা এলাকা ঘিরে পালা করে নজরদারি চালাচ্ছেন। নজরদারি বজায় রাখতে সোলার সিসিটিভি ক্যামেরাও লাগানো হয়েছে। বন দপ্তরের আশ্বাস, সরকারি নিয়ম মেনে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নতুন সরকার এমন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা করুক, যাতে জঙ্গলের বুনো হাতি ও লোকালয়ের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় থাকে। ঝাড়খন্ড লাগোয়া এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গজরাজের এই ‘আমন্ত্রণহীন অতিথি’ হয়ে আসা কবে বন্ধ হবে, সেদিকেই তাকিয়ে ঝালদার মানুষ।