সংবাদদাতা, বাগডোগরা: বাগডোগরা সেনা ছাউনির ভিতর সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে গেল মা হাতি ও শাবক। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দীর্ঘ প্রায় ৮ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় হস্তিশাবকটিকে উদ্ধার করে বনদপ্তর। এরপর মা ও শাবক হাতিটি জঙ্গলে ফিরে যায়। রবিবার ভোর চারটে নাগাদ বাগডোগরার ব্যাঙডুবি সেনা ছাউনির ১৬ এফএডির একটি সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে যায় একটি ১৫-২০ দিনের শাবক। মা হাতিটি সেই সময় প্রবল ডাকতে শুরু করে। ডাক শুনে সেনা কর্মীরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপর খবর দেওয়া হয় কার্শিয়াং বনবিভাগের বাগডোগরা রেঞ্জকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বনদপ্তরের বাগডোগরা রেঞ্জ ও এলিফ্যান্ট স্কোয়াড রেঞ্জ। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মা হাতিটি সেখান থেকে সরে গেলে সেপটিক ট্যাঙ্কের একাংশ ভেঙে হস্তি শাবকটিকে উদ্ধার করেন বনদপ্তরের কর্মীরা। পশু চিকিৎসক হস্তি শাবকটিকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তবে উদ্ধারের পর শুরু হয় পুনর্মিলনের চ্যালেঞ্জ। শেষে হস্তিশাবকটি মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার মুহূর্ত দেখে খুশিতে আত্মহারা হন বনকর্মীরা।
একাধিক সময়ে দেখা গিয়েছে বিচ্ছেদ হওয়া শাবককে গ্রহণ করতে চায় না হাতির দল। এক্ষেত্রে বনকর্মীদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। বাগডোগরা বনাঞ্চলে বর্তমানে ৫০টি হাতি রয়েছে। রবিবার ওই হস্তি শাবকটিকে মায়ের সঙ্গে মেলাতে গিয়ে দু’টি হাতির দলের মুখোমুখি হতে হয় বনকর্মীদের। একটি দলকে চিহ্নিত করে প্রায় ৮ ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর অবশেষে জঙ্গলের ভিতর হস্তি শাবকটিকে গ্রহণ করে মা হাতি। তবে বর্তমানে বনদপ্তরের নজরদারিতে রয়েছে ওই হাতির পাল সহ হস্তি শাবকটি।
বনদপ্তরের কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পান্ডে জানান, বনদপ্তরের বাগডোগরা রেঞ্জ ও এলিফ্যান্ট স্কোয়াড রেঞ্জ দু’টি দল তৈরি করে এই অভিযানে নামে। প্রথমে হস্তি শাবকটিকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে জঙ্গলের একাধিক জায়গা তল্লাশি চালিয়ে হাতির দল খুঁজে বের করা হয়। এর পরই পুনর্মিলনের চেষ্টা চালান বনকর্মীরা। এদিনের উদ্ধার ও পুনর্মিলন অভিযান সফল হয়।



