সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: হুকিং বা চুরি রুখতে ‘বিদ্যুৎ প্রহরী’ অ্যাপ আনছে বিজেপি সরকার। আজ, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই অ্যাপের উদ্বোধন করার কথা। এদিন তিনি বিদ্যুৎ ভবনে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করবেন। তার আগে অথবা পরে অ্যাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা করতে পারে বলে সূত্রের খবর। বিদ্যুৎ প্রহরী অ্যাপ যে কেউ ডাউনলোড করতে পারবেন। কোথাও বিদ্যুৎ চুরি কিংবা হুকিং হলে সেই তথ্য সরাসরি দপ্তুরে জানাতে পারবেন। যিনি তথ্য দেবেন তাঁর পরিচয় সম্পুর্ণ গোপন থাকবে। অ্যাপে তথ্য আসার সঙ্গে সঙ্গেই আধিকারিকরা তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেবেন। বিদ্যুৎ ভবনের আধিকারিকরা অ্যাপের উপর নজরদারি চালাবেন। এক আধিকারিক বলেন, বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও ভালো করতেও অ্যাপটি কার্যকর। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ চুরি সম্পুর্ণ বন্ধ করা হবে। বিভিন্ন জায়গায় কেবল বসানোর পরও চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। বিভিন্ন কৌশলে বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। সেই কারণেই এই অ্যাপ আনা হচ্ছে। এছাড়া পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্যও দপ্তরে জানাতে পারবেন গ্রাহকরা।
বিদ্যুৎদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত গ্রাম এবং শহরে কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়া হবে। অনেক শহরে এই কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকি শহরেও ধাপে ধাপে এই কাজ করা হবে। ইতিমধ্যেই কিছু গ্রামেও কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। আগামীদিনে রাজ্যের প্রতিটি গ্রামেই কেবল নির্ভর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। খোলা তারে সহজেই হুকিং করা যায়। কেবলের মাধ্যমে তা সম্ভব নয়। পাশাপাশি, সরকার সোলারেও জোর দিতে চাইছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পে সোলারের প্যানেল বসানো হলে বিদ্যুতের খরচ অনেকটাই কমে যাবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে সরকার ভর্তুকিও দিচ্ছে। এদিকে, সরকার দু’টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা করেছে। কিছুদিনের মধ্যেই সেই প্রকল্পও সরকার ঘোষণা করতে চলেছে।
বিদ্যুৎদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আগের তুলনায় বিদ্যুৎ চুরি অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। এখনও এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহক বিভিন্ন কৌশলে বিদ্যুৎ চুরি করছেন। তা বন্ধ করতে তাঁরা স্থানীয়দের সহযোগিতা চাইছেন। সেই কারণেই এই নয়া অ্যাপ। খুব সহজেই ডাউনলোড করে বিদ্যুৎ চুরির তথ্য দিতে পারেন যে কেউ। সেখানে লোকেশন দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। বিদ্যুৎ ভবনে অভিযোগ যাওয়ার পর তা জেলার আধিকারিকদের জানানো হবে। সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ কর্মীরা সেখানে পৌঁছে যাবেন। কিন্তু যিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁর পরিচয় জানার সুযোগ কখনই থাকবে না। অনেক সময় এলাকার বাসিন্দারা ভয়ে চুরির অভিযোগ জানাতে চান না। পরিচয় জেনে গেলে ‘সোর্সে’র উপর চাপ তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই সরকার অভিনব এই পদ্ধতি এনেছে। এছাড়া কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে বা অন্য কোনও সমস্যা হলে সেই তথ্যও খুব সহজেই জানানো যেতে পারে অ্যাপের মাধ্যমে।