সংবাদদাতা, তপন: স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষ উদযাপনের ঠিক প্রাক্কালে দীর্ঘ অন্ধকার ঘুচে আলো জ্বললো তপনের প্রত্যন্ত গ্রামের সাত আদিবাসী পরিবারে। বিশ্ব আদিবাসী দিবসে রবিবার প্রথমবার বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হল তপন ব্লকের গুড়াইল গ্রাম পঞ্চায়েতের লক্ষ্মীনারায়ণপুরের টাওয়ার পাড়া। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানীর তপন অফিসের উদ্যোগে মাত্র দু’দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ, কোটেশন তৈরি থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় খুশির হাওয়া বইছে এলাকায়।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন আদিবাসী অধ্যুষিত ওই গ্রামটি তপন ব্লকের একেবারে শেষ প্রান্তে। এখান থেকে মালদহ জেলার সীমানা শুরু। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত। বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত অজ্ঞতার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার জন্য কোথায় আবেদন করতে হয়, কী কী নথি প্রয়োজন সেসব জানতেন না গ্রামের বহু বাসিন্দা। এমনকি তপনে বিদ্যুৎ বণ্টন অফিস কোথায় সে সম্পর্কেও তাঁদের স্পষ্ট ধারণা ছিল না। সম্প্রতি বিষয়টি তপন বিদ্যুৎ বণ্টন অফিসের নজরে আসে।
এরপর আর দেরি না করে দপ্তর উদ্যোগী হয়। দ্রুত গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। একদিনের মধ্যে সাতটি পরিবারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করা হয়। তৈরি করা হয় কোটেশন। এরপর ওই সাতটি পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে দেওয়া হয়। রবিবার বিশ্ব আদিবাসী দিবসের দিনে ঘরে প্রথমবার বিদ্যুতের আলো জ্বলতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের কাছে এই আলো শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসার নতুন আশার প্রতীক।
পূর্ণিমা কিস্কু বলেন, এতদিন সন্ধ্যা নামলে ঘর অন্ধকার হয়ে যেত। কেরোসিনের আলো, মোমবাতির উপর নির্ভর করতে হত। ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে এটা ভাবতে পারিনি। এখন খুব ভালো লাগছে।
জুগরু মুর্মু বলেন, আমরা জানতাম না কীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করতে হয়। কোথায় যেতে হয়, তাও জানতাম না। দপ্তরের লোকজন নিজেরা এসে সব ব্যবস্থা করে দেওয়ায় অবশেষে আমাদের ঘরে আলো এল।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানীর তপন ব্লক অফিসের স্টেশন ম্যানেজার তাপস সরকার বলেন, ওই এলাকায় বহু পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলে আমরা জানতে পারি। এরপর দ্রুত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে দপ্তরের কর্মীরা সহযোগিতা করেন। একদিনের মধ্যে সাতটি পরিবারের কাগজপত্রের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়। পরদিন তাঁদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে ওই এলাকার বাকি পরিবারগুলিকেও বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।