Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

এক ধাক্কাতেই বিদ্যুতের ১০ শতাংশ দামবৃদ্ধি যোগীরাজ্যে

পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ে আম জনতার সংসারে। পাঁচ রাজ্যের ভোটের পর কেন্দ্রীয় সরকারি তেল সংস্থাগুলি লাগামছাড়াভাবে পেট্রপণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে।

এক ধাক্কাতেই বিদ্যুতের ১০ শতাংশ দামবৃদ্ধি যোগীরাজ্যে
  • ৩১ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ে আম জনতার সংসারে। পাঁচ রাজ্যের ভোটের পর কেন্দ্রীয় সরকারি তেল সংস্থাগুলি লাগামছাড়াভাবে পেট্রপণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে। আর তারই প্রভাবে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য থেকে সবজিবাজার এবং পরিবহণের ব্যয়বৃদ্ধিতে নাকাল সাধারণ মানুষ। এরপর আসতে চলেছে পরবর্তী ধাপ। বিদ্যুতের বিল বাড়বে আগামী দিনে। প্রথম ধাক্কা খেয়েছে উত্তরপ্রদেশ। শনিবারই উত্তরপ্রদেশ পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড জানিয়ে দিয়েছে যে, ওই রাজ্যে এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ বেড়ে যাচ্ছে বিদ্যুতের বিল। কারণ, বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন যে নিয়ম চালু করেছে, সেই অনুযায়ী গত মার্চ মাস থেকেই বলবৎ করা হচ্ছে ফুয়েল অ্যান্ড পাওয়ার অ্যাডজাস্টমেন্ট সারচার্জ। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে কর্পোরেশন জানিয়েছে, এই হিসাব অনুযায়ী জুন থেকেই যাতে সব স্তরের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ১০ শতাংশ করে বিল বাড়িয়ে দেওয়া হয়, সেটি সুনিশ্চিত করতে হবে। সার্কুলারে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, এই নির্দেশ এসেছে ভারত সরকার ও বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মাধ্যমে। সুতরাং ধরেই নেওয়া যায়, ভারত সরকার নিছক একটি রাজ্যের জন্য এই নিয়ম চালু করবে না। ক্রমেই শীঘ্রই সব রাজ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সুপ্রিম কোর্ট আগেই অনুমতি দিয়েছে যে, বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থাগুলি ‘অ্যাভারেজ কস্ট অব সাপ্লাই’তে ভারসাম্য আনতে পৃথক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সাপ্লাই এবং বিদ্যুতের দাম আদায়ের মধ্যে বড়োসড়ো ফারাক থেকে গিয়েছে। ৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল এই ঘাটতি। সেটিই সংস্কারের মাধ্যমে ক্রমেই কমানো হয়। এবং আরও কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের একটি রুলিং আছে, ২০৩১ সালের মধ্যে এই ফারাক পূরণ করতে হবে। সমস্ত রাজ্যই ওই রুলিং অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য। কেন্দ্রীয় সরকার সেইমতো চিঠিও দিয়েছে। এর মধ্যে লাগাতার দফায় দফায় ডিজেলের দাম বেড়েছে। এলপিজির জোগান সংকট তীব্র হয়েছে। কয়লারও সংকট দেখা দিয়েছে হঠাৎ অতিরিক্ত চাহিদাবৃদ্ধির ফলে। আর এসবের যোগফলে বেড়ে গিয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়। সুতরাং প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থাই সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে জানাচ্ছে যে, এবার বিদ্যুৎ ক্রয়বাবদ বেশি দাম দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই সেই অতিরিক্ত দাম বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা বহন করবে না। তা বহন করতে হবে আম জনতাকেই। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জেরে বিদ্যুতের দামে প্রভাব পড়লে, ইলেক্ট্রিসিটি বিলের ইউনিট পিছু হার নতুন করে আবার স্থির করতে হবে। দেশজুড়ে প্রবল তাপপ্রবাহ ও গরমের জেরে এবার সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বিদ্যুতের চাহিদা।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ