


সংবাদদাতা, বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় গত দেড় মাসে ১২-১৩ বার কালবৈশাখী ঝড়। যার ফলে জেলাজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও গাছ উপড়ে ঘর ভেঙেছে। কারও বাড়ির টিনের চাল উড়ে গিয়েছে। বাড়িঘরের পাশাপাশি ঝড়ে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার।
বৈশাখ মাসের শুরু থেকে যে ঝড় শুরু হয়েছে, তার জেরে অন্তত সাড়ে পাঁচশোর বেশি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। কোথাও ভেঙে পড়েছে ট্রান্সফরমার, কোথাও ছিঁড়ে পড়েছে তার। গত দু’দিন আগেও ঝড়ে তপন, বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর, হিলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত শনিবার রাতেও কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতি হয়েছে। ফলে বিদ্যুত্ বণ্টন সংস্থার আগের ক্ষত না সামলাতেই ফের খুঁটি ভেঙে পড়ছে, তার ছিঁড়ে যাচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করে বিদ্যুত্ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে কালঘাম ছুটছে আধিকারিক ও কর্মীদের। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার রিজিওনাল ম্যানেজার সৌভিক সরকার বলেন, ঝড়ে সাড়ে পাঁচশোর বেশি বিদ্যুতের খুঁটি নষ্ট হয়েছে। বহু ট্রান্সফরমার এবং তারের ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বালুরঘাট মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষক কেন্দ্র সূত্রে খবর, এপ্রিল মাসে ৪ থেকে ৫টি বড়ো ঝড় হয়েছে। মে মাসে ৮ টি ঝড় হয়েছে। তার মধ্যে শনিবার রাতে ঝড়ের গতিবেগ বেশি ছিল। চলতি মাসের ১৭, ২১, ২২ তারিখ পরপর ঝড়বৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শনিবার রাতে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৩ কিমি। ফলে জেলার তপন, বালুরঘাট এবং হিলির বেশ কিছু এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তপনের গোফানগর, মালঞ্চ, বালুরঘাটের বোয়ালদার, বোল্লা, গোপালবাটি, অমৃতখণ্ড, হিলির বিনসিরা, ধলপাড়ায় ঘরের চাল উড়ে গিয়েছে। গাছ পড়েছে অনেক জায়গায়। বালুরঘাটের গোফানগরের কৃষ্ণ কর্মকার বলেন, আমাদের ঘরের টিনের চাল উড়ে গিয়েছে। এলাকার বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। মুকুল কর্মকারের বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অমৃতখণ্ডের শিপ্রা বর্মন বলেন, দু’দিন পরপর ঝড় হচ্ছে। তারপর এলাকায় বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার রিজিওনাল ম্যানেজার জানান, শনিবার রাতে ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক জায়গাতেই বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুত্ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে কর্মী সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। যে সমস্ত জায়গায় এখনো পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি, সেখানে দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে।