নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: আকাশের দিকে চোখ মেললেই কালো তারের কুণ্ডলী। বছরের পর বছর ধরে শহরের আনাচে-কানাচে মাকড়সার জালের মতো ঝুলে রয়েছে বিপজ্জনক বিদ্যুতের তার। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই সেই তার ছিঁড়ে অন্ধকার নেমে আসে গোটা শহরে। ঘিঞ্জি বাজার এলাকায় বিদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লাগার আতঙ্কও তাড়া করে বেড়ায় সাধারণ মানুষকে। তবে এবার এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে চলেছে। শহরের রূপ ফেরাতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সমস্ত বিদ্যুতের তার মাটির তলা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা।
জানা গিয়েছে, গত ৫সেপ্টেম্বর এই ভূগর্ভস্থ তার পাতার মেগা প্রকল্পের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বীরভূমের জেলা সদর সিউড়ি ছাড়াও রাজ্যের আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শহরকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে কাঁথি, এগরা, বালুরঘাট, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার।
বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহরের চেহারাই বদলে যাবে। ঝড়বৃষ্টি বা কালবৈশাখীর দাপটে তার ছিঁড়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লোডশেডিং বা দুর্ঘটনার যে আতঙ্ক থাকে, তা আর থাকবে না। দুর্যোগের মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে। এছাড়া শহরের ঘিঞ্জি এলাকাগুলিতে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বহুলাংশে কমবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, মাটির নীচ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন গেলে বেআইনিভাবে হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরির প্রবণতায় পুরোপুরি রাশ টানা সম্ভব হবে, যা বণ্টন সংস্থার লোকসান অনেকটাই কমাবে।
সিউড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়িবাসীর জন্য এটিকে ‘জন্মাষ্টমীর বিশেষ উপহার’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, পুর এলাকায় আর কোথাও মাথার উপর তার ঝুলবে না, সিউড়ি সেজে উঠবে এবং সুরক্ষিত হবে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীশুভেন্দু অধিকারীর কাছে বীরভূমের উন্নয়নের জন্য কোনও দাবি জানিয়ে কখনও খালি হাতে ফিরতে হয়নি।
জগন্নাথ মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে তিনি বদ্ধপরিকর। তারের জঞ্জাল সরানোর উদ্যোগের পাশাপাশি সিউড়ির উন্নয়নে আরও একগুচ্ছ কাজ শুরু হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ময়ূরাক্ষী নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ, সিউড়ি-প্রান্তিক ও সিউড়ি-নলা রেল প্রকল্প, তিলপাড়ায় অত্যাধুনিক দুই শয্যার বৈদ্যুতিক চুল্লি স্থাপন এবং কলকাতায় বীরভূম ভবন নির্মাণ। এই সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের তোড়জোড় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।