নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: কে প্রকৃত তৃণমূল? কার হাতে থাকবে জোড়াফুল প্রতীক? দল চালনোর আনুষ্ঠানিক ক্ষমতাই বা কাদের হাতে থাকবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস নাকি ঋতব্রতর তৃণমূল। নির্বাচন কমিশন চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে উভয়পক্ষের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে। সোমবার সাড়ে ৫টার মধ্যে জবাব দিতে হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবারই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূলের ১০ নেতা। তাঁদের দাবি, তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল। সামনেই উপনির্বাচন। তাই ‘তাঁদের’ পছন্দের প্রার্থীকেই জোড়াফুলের প্রতীক দেওয়া হোক। পাশাপাশি তৃণমূল ‘দল’ চালানোর আনুষ্ঠানিক অনুমতিও চেয়েছেন বিদ্রোহীরা। যদিও এভাবে ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূলিদের সঙ্গে কমিশনের সাক্ষাৎ বেআইনি, অসাংবিধানিক বলেই তোপ দাগলেন সৌগত রায় এবং সাগরিকা ঘোষ।
তাঁদের মন্তব্য, তৃণমূল যাকে সাসপেন্ড করেছে, সেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে কী করে জ্ঞানেশ কুমার সাক্ষাতের সময় দিতে পারেন? ও তো দলেরই কেউ নয়। অভিযোগের সুরে সৌগতবাবু বলেন, ‘আসলে কমিশন চালাচ্ছেন অমিত শাহ। রামমন্দির থেকে যে কোটি কোটি টাকা লুট হয়েছে, সেই অর্থে বিরোধীদের কিনছে বিজেপি।’ তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস। দলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীররঞ্জন চৌধুরী এদিন বলেন, ‘তৃণমূলে যাঁরা বিদ্রোহ করছে, তাঁরা টিএমসির দয়াতেই বিধায়ক হয়েছেন। ওদের কী ক্ষমতা? ইঁদুর হয়ে বাঘ সাজার চেষ্টা চলছে।’
অরূপ রায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এদিন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বিদ্রোহীদের ৪৫ মিনিট বৈঠক হয়। ছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও অন্য দুই কমিশনার সুখবিন্দর সান্ধু এবং বিবেক যোশি। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৈরি ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটির বিস্তারিত কমিশনে জমা দেওয়া হয়। যদিও জ্ঞানেশ কুমার কোনো আশ্বাস বা কমিশনের মতামতের কথা জানাননি। বলেছেন, কাগজপত্র পরীক্ষা করে মতামত জানিয়ে দেব। বৈঠকের পর কমিশনের এই আপাত-অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূলের নেতারাই। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদও তাঁদের সঙ্গে আছেন কি? জানতে চাওয়ায় রহস্য জিইয়ে ঋতব্রতর মন্তব্য, ‘দেখতে থাকুন।’
সন্দীপন সাহা বলেন, ‘২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির পর তৃণমূলের জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির কোনো মিটিংই হয়নি। ফলে আমরাই সেটা গত ২২ জুন করেছি। সেখানেই নতুন কমিটি তৈরি হয়েছে। আর এটাই তৃণমূলের কমিটি বলে কমিশনকে অবগত করা হয়েছে।’ ঋতব্রত বলেন, ‘তৃণমূলের প্রতীক ‘ফ্রিজ’ হবে কি না, সেটা ঠিক করবে কমিশন। আমরা তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকব।’
এদিকে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ মামলায় স্বস্তি পেল না কালীঘাট তৃণমূল! ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাওয়া অ্যাকাউন্টগুলি খোলার আর্জি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তারা। কিন্তু এখনই কোনো নির্দেশ দিল না হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে হলফনামা তলব করলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সেই হলফনামা জমা দিতে হবে। পাশাপাশি পুলিশকেও তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।