


নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হল প্রথম দফার নির্বাচন। কমিশন জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার বুথ এবং তার ১০০ মিটারের মধ্যে কোনরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। অর্থাৎ ভোট প্রক্রিয়া কোথাও বিঘ্নিত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ঠিক কতগুলো বুথে পুনর্নির্বাচন হতে পারে, সে ব্যাপারে এখনো কিছু জানায়নি কমিশন। তবে পুনর্নির্বাচন সংক্রান্ত নির্ধারিত নিয়মে বড়সড় বদলের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। এবার ওয়েব কাস্টিংয়ের গোটা দিনের রেকর্ডিং দেখে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই একাধিক নির্দেশও জারি করা হয়েছে। সমস্ত জেলাকে দেওয়া নির্দেশে বলা হয়েছে, ভোট শেষের পর বুথে কোনো ক্যামেরার এসডি কার্ড খোলা যাবে না। শুধুমাত্র ক্যামেরা খুলে তা সেক্টর অফিসারের তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। ডিসিআরসিতে গিয়ে সমস্ত ক্যামেরার এসডি কার্ড খুলতে হবে। সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারদের উপস্থিত থাকতে হবে। সব ভিডিও ডেটা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ক্যামেরা সম্পূর্ণ অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত পোলিং পার্টি এবং বিএলও কেউ বুথ ছাড়তে পারবেন না।
কোনো বুথে ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়নি বলে কমিশন দাবি করলেও, এদিন দুপুরের পর মেদিনীপুরের পিংলা বিধানসভার ৯ নম্বর বুথের প্রিসাইডিং অফিসার-সহ সব কর্মী একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে বুথ ছেড়ে বেরিয়ে যান। বুথ থেকে নিরাপত্তা কর্মীরা তাঁদের ফোন করলে বলা হয়, তাঁরা বাইরে রয়েছেন। পরে আসছেন। সেক্টর অফিসারও বাইরে ছিলেন বলে অভিযোগ। খবর পাওয়া মাত্র পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে গোটা ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বুথের প্রিসাইডিং অফিসার সহ সব ভোট কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সিইও মনোজ আগরওয়ালকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘গোটা ঘটনার রেকর্ডিং রয়েছে। সমস্ত বুথ রেকর্ডিং যাচাই করা হবে। কোথাও পুননির্বাচন হবে কি না, তা ওই রেকর্ডিং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ জানা যাচ্ছে, এদিনই প্রিসাইডিং অফিসারদের তরফে সমস্ত ১৭এ ফর্ম জমা পড়ে যাবে। আজ শুক্রবার থেকে রেকর্ডিং দেখার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তারপরে ঠিক করা হবে, কতগুলি বুথে পুনর্নির্বাচন হবে।