নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: থাকা-খাওয়ার পরিবর্তে বৃদ্ধাশ্রম এক লক্ষ টাকা নিয়েছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে সেখানে থাকতে শুরু করেছিলেন ষাটোর্দ্ধ শর্মিষ্ঠা মুস্তাফি। এখন বৃদ্ধশ্রম কর্তৃপক্ষ তাঁর উপর অত্যাচার চালাচ্ছেন। আরও অভিযোগ, মালিকের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শর্মিষ্ঠাদেবীকে পরিচারিকার কাজ করানো হচ্ছে। বুধবার বারাসত মহিলা থানায় লিখিত জানান বৃদ্ধা। পাশাপাশি নবান্ন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরেও অভিযোগ জানান।
শর্মিষ্ঠাদেবীর স্বামী ছিলেন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের একমাত্র ছেলে। বাড়ি হাতিবাগানে। তবে বাড়িতে ঠাঁই হয়নি বলে টাকার বিনিময়ে মধ্যমগ্রামের একটি বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিক হিসেবে বছর তিনেক হল থাকছেন। জীবনের বাকি ক’টা দিন এখানেই কাটাবেন বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু এখানেও অত্যাচার!
শর্মিষ্ঠাদেবীর অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁকে বিভিন্নরকম চাপ দেওয়া হচ্ছে। বৃদ্ধাশ্রমের মালিক নিপা রায় সরকার পেশায় হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক। তিনি তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শর্মিষ্ঠাদেবীকে গেরস্থালির সমস্ত কাজ করান। বৃদ্ধাশ্রমটি মধ্যমগ্রামে। আর নিপাদেবীর বাড়ি নিউ বারাকপুরে। ওখানে নিয়ে গিয়ে রাখা হতো শর্মিষ্ঠাদেবীকে। ধীরে বৃদ্ধাশ্রমের মালিকের বাড়ির পরিচারিকাই হয়ে উঠেছেন তিনি। কিছুদিন সহ্য করেছিলেন শর্মিষ্ঠাদেবী। কিন্তু ধীরে কাজের চাপ বাড়তে শুরু করে। তিনি বলেন, ‘আমাকে দিয়ে বৃদ্ধাশ্রমের সমস্ত কাজ করানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধাশ্রমের মালকিন আমাকে দিয়ে নিজের বাড়ির কাজও করাচ্ছেন। না করতে চাইলে ভয় দেখানো হচ্ছে। মারধর আর প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে। আমি বিচার চেয়ে পুলিস, পুরসভা ও নবান্নে মালকিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছি।’ তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বৃদ্ধাশ্রমের মালিক নিপাদেবী। শর্মিষ্ঠাদেবী জানান, অত্যাচারে ফলে তিনি বৃদ্ধাশ্রম ছেড়ে এক পরিচিতের বাড়িতে এসে থাকছেন দিন দু’য়েক ধরে। ছেলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই।