Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ সত্ত্বেও রামপুরহাটে শুনানি কেন্দ্রে বয়স্করা

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ দিয়েছে, ৮৫ বছরের বেশি বয়সি, সন্তানসম্ভবা এবং গুরুতর অসুস্থ ভোটারদের শুনানি কেন্দ্রে আসতে বাধ্য করা যাবে না।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ সত্ত্বেও রামপুরহাটে শুনানি কেন্দ্রে বয়স্করা
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ দিয়েছে, ৮৫ বছরের বেশি বয়সি, সন্তানসম্ভবা এবং গুরুতর অসুস্থ ভোটারদের শুনানি কেন্দ্রে আসতে বাধ্য করা যাবে না। এই সমস্ত ভোটারদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে শুনানি করতে হবে। এই নির্দেশ উপেক্ষা করা হলে সংশ্লিষ্ট বিএলও এবং সুপারভাইজারদের কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে। কমিশনের এই নির্দেশের পরও শুক্রবার হার্টের রোগী, আশি বছরের বেশি বয়সি অনেক ভোটারকে আসতে হল রামপুরহাট ১ ব্লকের শুনানি কেন্দ্রে। অর্থাৎ শুনানির পঞ্চম দিনেও বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের হয়রানি অব্যাহত রইল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ নীচতলা পর্যন্ত পৌঁছয়নি। তাই অসুস্থ ব্যক্তি, হার্টের রোগীদের দাঁড়াতে হল শুনানির লাইনে। 

Advertisement

রামপুরহাট শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সানঘাটা পাড়ার বাসিন্দা বছর ষাটের যমুনা দাস হার্টের অসুখে ভুগছেন। চিকিৎসক হার্টের অপারেশন করাতে বলেছেন। এখন নিয়মিত ওষুধ খেতে হচ্ছে তাঁকে। চিকিৎসক হাঁটচলা করতে নিষেধ করেছেন। তা সত্ত্বেও শুনানির ডাক পেয়ে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন ব্লক অফিসে। যুমনাদেবী বলেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার নাম নেই, স্বামীর আছে। বাধ্য হয়েই অসুস্থ শরীরে আসতে হল। একটু হাঁটতেই হাঁপিয়ে উঠছি। খুব কষ্ট হচ্ছে। স্বামী অতুল দাস বলেন, অসুস্থদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করবেন আধিকারিকরা এটা কেউ আমাদের জানায়নি। 
অন্যদিকে রামপুরহাট শহরের নিশ্চিন্তপুরের আশি বছরের ধজাধারী মণ্ডল কাগজ হাতে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে। অসুস্থ হওয়ায় হাত, পা কাঁপছে তাঁর। বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেন না। কিন্তু উপায় নেই। বলেন, বরাবর ভোট দিয়ে আসছি। কিন্তু ২০০২ সালের তালিকায় আমার নাম নেই। তাই আসতে হয়েছে। যদিও এদিন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা বৃদ্ধের ছবি তুলতে শুরু করলে তৎপরতা বাড়ে প্রশাসনিক মহলে। খোদ বিডিও অঙ্কুর মিত্র চেম্বার ছেড়ে বেরিয়ে এসে ওই বৃদ্ধকে একটি চেয়ারে বসিয়ে শুনানি করেন ও সইপত্র করে হয়ে গিয়েছে বলে বাড়ি চলে যেতে বলেন। নারায়ণপুরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব প্রীতি সরকার কোমরের যন্ত্রণায় বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেন না। শুনানিতে আসতে হয়েছে তাঁকেও। রামপুরহাটের বামদেবপুরের বাসিন্দা বছর আঠাত্তরের শিশিরকুমার মাল। চোখে খুবই কম দেখেন। শারীরিক অসুস্থতাও রয়েছে। শুনানির দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে বসে পড়েছেন তিনি। বলেন, ২০০২ সালের তালিকায় কী করে নাম বাদ গেল জানি না। আজ যেমন কমিশন তৎপর, তখন আমরা বেঁচে না মারা গিয়েছি, সেটা তো কমিশনের দেখা উচিত ছিল। তাহলে এত হয়রানি হতো না। আজ বাধ্য হয়ে অসুস্থ শরীরে, আন্দাজে এতদূর ব্লক অফিসে শুনানিতে আসতে হল। সব মিলিয়ে এসআইআরের শুনানিতে হয়রানির শেষ নেই অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের। 
যদিও বিডিও বলেন, বিএলও এবং সুপারভাইজারদের বারবার বলে দিচ্ছি, অসুস্থ বা বয়স্ক ভোটার, তাঁদের শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়ে থাকলেও আসতে নিষেধ করতে। এবার যাঁরা বিএলওকে যোগাযোগ করে খবর দিচ্ছেন বা বিএলও জানেন, তাঁদের বাড়ি গিয়ে শুনানি করব। কিন্তু যাঁদের সঙ্গে বিএলও যোগাযোগ করতে পারেননি বা চেনেন না, এমন কিছু ভোটার শুনানিতে চলে আসছেন। আমরা চেষ্টা করছি, তাঁদের তাড়াতাড়ি শুনানি করে ছেড়ে দেওয়ার। এদিন এসডিও সাহেবও নিজে হিয়ারিং করেছেন। তিনি বলেন, যেহেতু ওই সমস্ত ভোটারদের বাড়িতে অনেক আগেই শুনানির নোটিশ চলে গিয়েছে, ফলে অসুবিধে আছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ