Bartaman Logo
৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অভিজাত ফ্ল্যাটে একাকিত্ব রোগে বিধ্বস্ত বয়স্ক বাবা মায়েরা, ফোনেই কর্তব্য সারছে সন্তানরা

বর্ধমান শহরের অভিজাত এলাকা ‘রেনেসাঁ’। পেল্লায় ফ্ল্যাট। রয়েছে দামি আসবাবপত্র। আধুনিকজীবনের কোনো কিছুর অভাব নেই।

অভিজাত ফ্ল্যাটে একাকিত্ব রোগে বিধ্বস্ত বয়স্ক বাবা মায়েরা, ফোনেই কর্তব্য সারছে সন্তানরা
  • ৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান শহরের অভিজাত এলাকা ‘রেনেসাঁ’। পেল্লায় ফ্ল্যাট। রয়েছে দামি আসবাবপত্র। আধুনিকজীবনের কোনো কিছুর অভাব নেই। গরম বাড়লেই চালিয়ে দেওয়া হয় এসি। আবার ইচ্ছে করলেই ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে মাইক্রোওভেনে গরম করে খাওয়া যায়। বড়ো সাইজের টিভি রয়েছে। কিন্তু, কৃত্রিম এই দুনিয়ায় অভাব শুধু মনের কথা বলার লোকের। আপনজন বলে কেউ ছিল না। ইচ্ছে থাকলেও কারও সঙ্গে কথা বলতে বলতে হাসার জো নেই। আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে জলের গ্লাসটুকুও এগিয়ে দেওয়ার কেউ ছিল না। এই করতে করতে কখন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন ৭০-র পেরনো অজয় ঘটক, তা কেউ জানতেও পারেননি। স্থানীয়রা বলছেন, শুধু রেনেসাঁ নয়, শহরের প্রায় সমস্ত অভিজাত এলাকায় অনেকেই একাকিত্বে ভুগছেন। তাঁদের কারও বয়স ৭০, আবার কেউ আশির দোরগোড়ায়। শহরের একটি অভিজাত এলাকার বাসিন্দা নুরুল হাসান বলেন, ছেলে-মেয়েরা কেরিয়ারের জন্য অন্যত্র থাকছেন। কেউ ফ্ল্যাটে একা বাবাকে রেখে যাচ্ছেন, আবার কারও ‘বাংলো’য় থাকছেন বয়স্ক মা। ছেলে-মেয়েরা ফোনে তাঁদের খবর রাখেন। কিন্তু, তাঁদের পাশে থাকার সময় তাঁদের নেই। রেনেসাঁর ওই ফ্ল্যাটে বৃদ্ধ কয়েক দিন ধরে একা ছিলেন। তাঁর মেয়ে কাজের সূত্রে বাইরে গিয়েছিলেন। কখন তিনি অসুস্থ হয়েছেন বা কখন মারা গিয়েছেন, কেউই জানতে পারেননি। এলাকার আরএক বাসিন্দা সুমন্ত ভট্টাচার্য বলেন, বৃদ্ধ, বৃদ্ধাদের অনেকেই একাকিত্বে ভুগছেন। অভিজাত এলাকাগুলিতে আড্ডা দেওয়ার চল নেই। সারাক্ষণ ফ্ল্যাটে থাকতে থাকতে  মানসিকভাবে তাঁরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে যাঁরা একা থাকছেন, তাঁদের সমস্যা বেশি। তাঁদের বেশিরভাগই এক সময় সরকারি চাকরি করতেন। গ্রামের সম্পত্তি বিক্রি করে অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট কিনে রেখেছেন। এক ছেলে বা মেয়ে চাকরি সূত্রে বাইরে চলে যাচ্ছেন। ফ্ল্যাটে বৃদ্ধ বা বৃদ্ধারা দরকারে কাউকে পাচ্ছেন না। তবে একাকিত্বে ভোগা এই মানুষগুলির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। এক আধিকারিক বলেন, যাঁরা ফ্ল্যাট বা বাংলোয় একা থাকছেন, তাঁরা যে কোনো দরকারে পুলিশকে ফোন করতে পারেন। অসুস্থ হলে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পুলিশ নেবে। আবার অন্য কোনো দরকার হলেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে।  পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সমস্ত মানুষজনের পাশে দাঁড়াতে পুলিশ এক সময় ‘প্রণাম’ নামে একটি প্রকল্প চালু করেছিল। পুলিশ কর্মীরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের খোঁজ নিতেন। আবার সেরকম শুরু হবে। সেটা হলে হয়তো বয়স্ক বাবা, মায়েরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। ছেলে মেয়ে না হোক, পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে তাঁরা দুদণ্ড কথা বলার সুযোগ পাবেন।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ