Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়াই অস্ত্রোপচার, দৃষ্টিশক্তি হারালেন বৃদ্ধ,অভিযুক্ত নার্সিংহোম বন্ধের নির্দেশ

যোগত্যাসম্পন্ন চিকিৎসক ছাড়াই দিব্যি চলছিল চক্ষু হাসপাতাল।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়াই অস্ত্রোপচার, দৃষ্টিশক্তি হারালেন বৃদ্ধ,অভিযুক্ত নার্সিংহোম বন্ধের নির্দেশ
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বেলদা: যোগত্যাসম্পন্ন চিকিৎসক ছাড়াই দিব্যি চলছিল চক্ষু হাসপাতাল। কিন্তু ভুল চিকিৎসায় এক বৃদ্ধের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার অভিযোগ ওঠার পরই পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির কুকাই এলাকার সেই বেসরকারি হাসপাতালটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিল জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। সোমবার প্রশাসনের তরফে কড়া নির্দেশিকা জারি করে হাসপাতালের সমস্ত পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কেন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা নিয়ে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ নভেম্বর। নারায়ণগড়ের বৈরামপুরের বাসিন্দা বৃদ্ধ সুধীর কোটাল ছানি অপারেশনের জন্য ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর ছেলে সমরেশ কোটালের অভিযোগ, লেন্স বসানো ও অস্ত্রোপচারের নামে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৭ হাজার টাকা নিলেও কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিষেবা মেলেনি। উল্টে অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বাম চোখের দৃষ্টি হারাতে থাকেন ওই বৃদ্ধ। এরপর অন্যত্র ডাক্তার দেখালে জানা যায়, ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে চিরতরে অন্ধ হতে বসেছেন সুধীরবাবু। এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর।

রবিবার ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুদীপকুমার মণ্ডল সহ একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালটিতে ঝটিকা অভিযান চালান। আর সেই তদন্তেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। হাসপাতালের অপারেশন রেজিস্টারে জনৈক ‘ডি ঘোষ’ নামে এক চিকিৎসকের নাম নথিভুক্ত থাকলেও, তদন্তকারীরা ওই নামের কোনও চিকিৎসকের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। এমনকী মালিক দিলীপ দাসও ওই চিকিৎসকের সপক্ষে কোনও বৈধ নথি বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পাশাপাশি ফায়ার লাইসেন্স থেকে শুরু করে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্টের একাধিক নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে।

এই বিষয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গি বলেন, আপাতত হাসপাতালটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য সেখানে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে। এছাড়া ক্ষতিপূরণের বিষয়টি দেখার জন্য আমরা স্বাস্থ্য কমিশনকে জানিয়েছি। এদিকে বৃদ্ধের চোখের এই অবস্থায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর ছেলে সমরেশ কোটাল। তিনি বলেন, আমরা এই হাসপাতালের মালিকের কঠোর শাস্তি চাই। যেভাবে আমার বাবার চোখ নষ্ট হয়েছে, একইভাবে আর কারও যাতে ক্ষতি না হয়, সেটা প্রশাসনের দেখা উচিত। উপযুক্ত বিচার পেতে আমি স্বাস্থ্য কমিশন পর্যন্ত লড়াই করব।

অভিযুক্ত মালিক দিলীপ দাস বর্তমানে অসুস্থ থাকায় তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নির্দেশ মেনে আপাতত হাসপাতালটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ