নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করতে প্রতিবন্ধী এক বৃদ্ধকে ‘লক্ষ্মী’ বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল! এমনই অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল অশোকনগরের কাকপুল এলাকা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তোলার পাশাপাশি আবাস যোজনা এবং উম-পুনের ত্রাণের টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতা সমীর দে’র বিরুদ্ধে। ক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিযুক্তর বাড়িতে চড়াও হন এলাকার মহিলারা। বাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ও ইট ছোড়া হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে অশোকনগর থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগর পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯ নম্বর কাকপুল এলাকার বাসিন্দা প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ বিমল দাস। অভিযোগ, ২০১৮ সালে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর ব্যাংকের পাশবই নিজের কাছে রেখে দেন প্রতিবেশী তথা তৃণমূল নেতা সমীর দে। আবাস যোজনার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হলেও আর পাশবই ফেরত দেননি তিনি। পরিবারের দাবি, নানা অজুহাতে বছরের পর বছর ওই পাশবই নিজের কাছেই রেখে দেন সমীর। অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। পরিবারের আরও দাবি, ২০২১ সালে বিমল দাসের নথিপত্র ব্যবহার করে তাঁকে মহিলা দেখিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করা হয়। সরকারি নথি যাচাইয়ের গাফিলতিতে সেই আবেদন অনুমোদিত হয়ে যায়। এরপর নিয়মিত বিমল দাসের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকতে শুরু করে। কিন্তু পাশবই অভিযুক্তের কাছে থাকায় সেই টাকা কখনও উপভোক্তার হাতে পৌঁছায়নি। বরং দীর্ঘদিন ধরে ওই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিমল দাসের দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকার পাশাপাশি আবাস যোজনার অনুদান এবং ঘূর্ণিঝড় উম-পুনের ক্ষতিপূরণের টাকাও আত্মসাৎ করা হয়েছে। মেয়ে একাধিকবার পাশবই ফেরত চাইলেও কোনো লাভ হয়নি। উলটে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। বাসিন্দাদের বক্তব্য, শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই এতদিন সমীর দে’র বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস দেখাতে পারেননি কেউ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে অশোকনগর থানার পুলিশ। অভিযুক্তকে পুলিশ আটক করেছে। তবে এই অভিযোগ প্রসঙ্গে সমীর দে’র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নিজস্ব চিত্র



