Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সোদপুরে বৃদ্ধ দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী, অনুমান পুলিসের

সোদপুরে বৃদ্ধ দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী, অনুমান পুলিসের
  • ২ জুন, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: অফিস থেকে বারবার মা-বাবাকে ফোন করছিলেন মেয়ে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত টানা বেশ কয়েকবার। কেউ ফোন ধরেননি। অজানা আশঙ্কায় রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ কাকুর ছেলেকে ফোন করে বলেছিলেন, বাড়িতে গিয়ে সে যেন বাবা-মা’র খবর দেন। খুড়তুতো ভাই ছুটে গিয়েছিলেন তড়িঘড়ি। গিয়ে দেখেন, অন্ধকার ঘরে ঝুলছে জেঠু-জেঠিমার দেহ। শনিবার রাতে সোদপুর নাটাগড় মহেন্দ্রনগরের এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিস জানয়েছে, মৃত দম্পতির নাম শেখর সামন্ত (৬৩) ও মনিকা সামন্ত (৫৫)। ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটালেন তাঁরা, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। দম্পতির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিস। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘোলা থানার মহেন্দ্রনগর শীতলাতলা ওয়াটার পাম্প এলাকায় শেখরবাবুর বাড়ি। তিনি অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী। তাঁর স্ত্রী মনিকাদেবী দীর্ঘদিন স্নায়ুরোগে ভুগছেন। মাঝে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করাতেও হয়েছিল। এখন বাড়িতে থাকলেও প্রচুর ওষুধ খেতে হতো তাঁকে। একমাত্র মেয়ে সায়ন্তী সামন্ত একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। অন্যান্য দিনের মতো শনিবারও তিনি অফিস থেকে মা ও বাবাকে ফোন করেন। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় ফোন করেও যোগাযোগ না হওয়ায় তিনি রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ কাকার ছেলে সৃজন সামন্তকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তাঁকে বাড়িতে যেতে বলেন। টিউশন শেষ করে রাত ৯টা  নাগাদ সৃজন জেঠুর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়েই তিনি এই মর্মান্তিক দৃশ্যের সাক্ষী হন। 
সৃজন বলেন, ‘জেঠুর বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করে কোনও সাড়াশব্দ পাইনি। সারা বাড়ি অন্ধকার ছিল। ঘরের দরজা ভেজানো ছিল। মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে ঘরে ঢুকি। প্রথমে আমি জেঠিমার ঝুলন্ত দেহ দেখে চমকে উঠি। আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে কিছুটা দূরে বাবার দোকানে ছুটে যাই। তখন সবাই ছুটে আসে। তখনও জানতাম না, অন্য একটি ঘরে একইভাবে ঝুলছে জেঠুর দেহও।’ মৃত শেখরবাবুর ভাই সুনীল সামন্ত বলেন, ‘বউদি খুবই অসুস্থ ছিলেন। দিনে দিনে শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছিল। এসব নিয়ে দাদা-বউদি দু’জনেরই মানসিক অশান্তি বাড়ছিল। বাড়িতে অন্য কোনও সমস্যার কথা শুনিনি। আর্থিক অনটনও ছিল না। তবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা আমরা কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। বাবা ও মায়ের এই পরিণতিতে তাঁদের একমাত্র মেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এসিপি (ঘোলা) তনয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মানসিক অবসাদে ওই দম্পতি আত্মহত্যা করেছেন বলেই প্রাথমিক অনুমান। তবে তদন্তে সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ