Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভিসা পেতে রেজিস্ট্রি, ভুয়ো ম্যারেজ সার্টিফিকেট চক্রের শিকার বৃদ্ধ দম্পতি

ভিসা পেতে রেজিস্ট্রি, ভুয়ো ম্যারেজ সার্টিফিকেট চক্রের শিকার বৃদ্ধ দম্পতি
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেয়ে চাকরিরত সুইজারল্যান্ডে। বাবা-মাকে নিজের কাছে কিছুদিন কাটাতে আসতে বলায় সুইজারল্যান্ড পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হাওড়া বৃদ্ধ দম্পতি। সেই লক্ষ্যেই ভিসার আবেদন জানিয়েছিলেন ৭২ বছর বয়সি ব্রজ অধিকারী (নাম পরিবর্তিত) ও তাঁর স্ত্রী কণিকা অধিকারী (নাম পরিবর্তিত)। তাঁদের সামাজিকভাবে বিয়ে হলেও কোনও দিন রেজিস্ট্রি করার প্রয়োজন পড়েনি। কিন্তু, ভিসা পেতে প্রয়োজন পড়ে বিয়ের রেজিস্ট্রির শংসাপত্র। ফলে বার্ধক্যে এসেই বিয়ের রেজিস্ট্রির সিদ্ধান্ত নেন এই দম্পতি। যোগাযোগ হয় দুই ব্যক্তির সঙ্গে। তাঁরা নিজেদের ‘ম্যারেজ রেজিস্ট্রার’ হিসেবে পরিচয় দেন। ভরসা করেই তাঁদের সমস্ত নথি তুলে দেন এই দম্পতি। বেশ কিছু কাগজে সইও করান তাঁরা। তারপর দম্পতির হাতে তুলে দেন একটি ভুয়ো ম্যারেজ সার্টিফিকেট। এই শংসাপত্র-সহ ভিসার আবেদনের করাতেই ধরা পড়ে যে এই ম্যারেজ সার্টিফিকেট আসলে জাল।

Advertisement

এমন ঘটনা একাধিক। একইভাবে ভুয়ো ম্যারেজ সার্টিফিকেট চক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন নরেন্দ্রপুরের এক দম্পতিও। সামাজিক বিয়ের একবছর পরে রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে হাতে পান জাল ম্যারেজ সার্টিফিকেট। সামাজিক বিয়ের দু’মাস পরে রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে ভুয়ো ম্যারেজ সার্টিফিকেট পেয়েছেন বীরভূম জেলার দীপ আচার্য (নাম পরিবর্তিত) ও তাঁর স্ত্রী। অবাক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার দম্পতি। তাঁদের সামাজিক বিয়ের ১০ বছর পর তাঁর রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে এই চক্রের খপ্পরে পড়েন এই দম্পতি। মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয় তাঁদের থেকে। পরিবর্তে দেওয়া হয় হুবহু আসলের মতো দেখতে জাল ম্যারেজ সার্টিফিকেট। 
এই ঘটনা সামনে আসার পরেই প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিষয়টি পুলিসের নজরে আনা হয়েছে। হাওড়ার বৃদ্ধ দম্পতির ক্ষেত্রে আইন দপ্তরের অধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ম্যারেজেসের তরফে একেবারে নিখরচায় তাঁদের বিয়ের রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। আসল শংসাপত্র হাতে পেয়ে তাঁরা পুনরায় ভিসার আবেদন করেন। সেটি মঞ্জুর হওয়ার পরই তাঁরা বিদেশে মেয়ের কাছে যেতে পারেন। 
রাজ্যের এক আধিকারিক জানান, এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন জেলার পুলিসকে। সেই সঙ্গে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ম্যারেজ সার্টিফিকেটে হাই-সিকিউরিটি কিউআর কোড দেওয়া থাকে। সেটি স্ক্যান করলেই রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য উঠে আসে মোবাইল ফোনে। জাল সার্টিফিকেটগুলিতেও একটি করে কিউআর কোড পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু সেগুলি স্ক্যান করে কিছুই মেলেনি। একটি ম্যারেজ সার্টিফিকেট আসল না নকল তা বুঝতে এই কোড স্ক্যান করাই সহজ উপায়। কারণ, চক্রের পান্ডারা এমন করে নকল সার্টিফিকেটগুলি তৈরি করে যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা দেখে বোঝার উপায় থাকে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ