


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ইজারা নেওয়া সরকারি জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে পুলিসের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। পুলিসের তরফে কয়েকজন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে তারা অভিযোগকারীর বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটে জগৎবল্লভপুরের শিয়ালডাঙায়। প্রায় ১৫ জন দুষ্কৃতী বাড়িতে চড়াও হয়ে বৃদ্ধ দম্পতি ও তাঁদের প্রতিবন্ধী মেয়েকে বেধড়ক মারধর করে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিস।
জগৎবল্লভপুরের শিয়ালডাঙা পঞ্চায়েতের ইছাপুর ঘড়াপাড়ার বাসিন্দা রবীন ঘড়া। তাঁর বাড়ির কাছে প্রায় ১৪ ডেসিমেল আয়তনের একটি সরকারি জমি রয়েছে। সঙ্গেই রয়েছে একটি নয়ানজুলি। জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের থেকে সেই সরকারি জমি ইজারা নিয়েছিলেন রবীনবাবু। যাতায়াতের সুবিধার জন্য নয়ানজুলির উপর পাকা সাঁকো তৈরি করার অনুমতিও পান তিনি। পূর্তদপ্তর সেই অনুমতি দেয়। পরিবারের অভিযোগ, মাসখানেক আগে এলাকারই কয়েকজন সমাজবিরোধী ইজারা নেওয়া সরকারি জমি দখলের চেষ্টা করে। রবীনবাবুকে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তখনই বৃদ্ধ জগৎবল্লভপুর থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন। পুলিস কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে। এরপর আদালতে নির্দেশে অভিযুক্তরা জামিন পেয়ে গত মঙ্গলবার রাতে ফের রবীনবাবুর বাড়িতে গিয়ে চড়াও হয়।
পরিবারের দাবি, অন্তত জনা কুড়ি দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় অভিযুক্তরা। রবীন ঘড়া ও তাঁর স্ত্রী বন্দনা দেবীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। দম্পতির প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ইজারা নেওয়া জমির নথিপত্র খুঁজতে দুষ্কৃতীরা ঘরের ভিতরে তাণ্ডব চালায়। রবীনবাবু বলেন, ‘আতঙ্কে রয়েছি। সামান্য অংশ সরকারি জমি ইজারা নিয়ে চাষ করি। পুলিস ব্যবস্থা নিক।’ ১৫ জনের নামে জগৎবল্লভপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রত্যেকেই পলাতক। হাওড়া গ্রামীণ পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই জমি নিয়ে সমস্যা। অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।