


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আক্রান্ত বাংলা ভাষা। অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বললেই ভিন রাজ্যে আক্রান্ত হচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। এবার এই ইস্যুকে সামনে রেখেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘একুশের বইমেলা’। বইমেলার থিম ‘আক্রান্ত আমার ভাষা’। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দক্ষিণ কলকাতার বাঘাযতীনের লায়েলকা মাঠে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ন’দিনব্যাপী এই বইমেলা। সেখানেই বিভিন্ন জেলা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা আসবেন। তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরবেন। বইমেলার উদ্বোধন করবেন সংগীতশিল্পী কবির সুমন।
কলকাতা ক্রিয়েটিভ পাবলিশার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে প্রথমবার এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই বইমেলার উদ্যোক্তা মারুফ হোসেন বলছিলেন, ‘ভারতের মূল সুর তো বহুত্ববাদের। এই ভাবনা কোথাও গিয়ে সংকটে রয়েছে বলেই ভাষাগুলো আক্রান্ত হচ্ছে। শুধু বাংলা নয়, আরো অনেক ভাষার ক্ষেত্রেও এই আক্রমণ নেমে আসছে। তাই আমরা পরিযায়ী শ্রমিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য দিল্লিতে গিয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে হোটেল পাননি, এরকম মানুষও থাকবেন। অর্থাত্ শুধুই যে খেটে খাওয়া মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, এমনটা নয়।’
উদ্যোক্তারা মনে করছেন, ভাষা আক্রান্ত হওয়ার অর্থ, সেই ভাষার নাটক, ক্রীড়া, সাহিত্যের উপরও তার একটা প্রভাব পড়ে। ফলত, সেই জগতের উল্লেখযোগ্য মানুষও আক্রান্ত। তাই সেসব ক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বরাও এই বইমেলায় আলোচনায় যোগ দেবেন। ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলার বাইরে থেকে আলোচনায় যোগ দিতে আসবেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণিশংকর আইয়ার। সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য ২১ তারিখে আলোচনা সভায় যোগ দেবেন।
মারুফ জানাচ্ছেন, ‘১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে মাথায় রেখে ৫২ জন চিত্রশিল্পী বইমেলায় এই থিমের উপরই লাইভ ছবি আঁকবেন। বাংলার বাইরের আরো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কথা হচ্ছে।’ বইমেলায় ১০০টি বইয়ের স্টল থাকবে। মারুফ বলেন, ‘মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদীয়া ও মেদিনীপুরের পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে আমাদের ইতিমধ্যেই কথাবার্তা হয়েছে। বিভিন্ন দিন তাঁরা উপস্থিত থাকবেন। নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরবেন তাঁরা।’