Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এখনও মুকুল আসেনি জেলার বাগানগুলিতে

এখনও মুকুল আসেনি জেলার বাগানগুলিতে
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, লালবাগ: ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও মুর্শিদাবাদের আম বাগানগুলিতে মুকুলের দেখা নেই। বাগানের বেশিরভাগ গাছেই মুকুল না আসায় আম চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। যদিও তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলেই গাছ মুকুলে ভরে উঠবে বলে আশা চাষিদের একাংশের। জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলায় সাধারণত জানুয়ারি মাসের প্রথম থেকেই আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করে। মাসের শেষ পর্যন্ত প্রায় সব গাছে মুকুল এসে যায়। কিন্তু এবছর আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে মুকুল আসতে দেরি হচ্ছে। তবে এখনও মুকুল আসার সময় শেষ হয়ে যায়নি। উষ্ণতার পারদ চড়তে শুরু করলেই গাছ মুকুলে ভরে উঠবে বলে আশা করা যায়। 
Advertisement
ভ্যারাইটি এবং স্বাদ ও গন্ধের জন্য মুর্শিদাবাদের আমের বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে। জেলার লালবাগ, জিয়াগঞ্জ, ভগবানগোলা, লালগোলা, জঙ্গিপুর, ধুলিয়ান, ফরাক্কা ও ইসলামপুরে বহু আম বাগান রয়েছে। আমচাষিদের দাবি, বাগানগুলিতে সারেঙ্গা, বিমলি, বীরা, পাঞ্জাপসন্দ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, বোম্বাই, রানিপসন্দ, কোহিতুর, চম্পা, ফজলি প্রভৃতি শতাধিক প্রজাতির আমগাছ রয়েছে। প্রতিবছর মুর্শিদাবাদের আম রাজ্য ও রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকী, রপ্তানি সংস্থার হাত ধরে বিদেশেও পৌঁছে যায়। কাজেই মোটা অঙ্কের মুনাফার আশায় আম চাষিদের পাশাপাশি ফল ব্যবসায়ীরাও আমের মরশুমে ভালো ফলনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। কিন্তু চলতি বছরে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় এখনও পর্যন্ত মাত্র ১০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। যা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে জেলার আম চাষিদের। তাঁরা বলেন, মুকুল আসার আগে থেকেই গাছের পরিচর্চা করতে হয়। নভেম্বর মাসের শেষ বা ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে পরিচর্চা শুরু হয়। অধিক ফলন পেতে বাগান পরিচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরজন্য ভালো খরচ হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পড়তে চললেও জেলার প্রায় প্রতিটি বাগানে মাত্র কয়েকটা গাছে মুকুল এসেছে। এরপর শত্রুপোকা, কালবৈশাখী তো মাথার উপর রয়েছে। বাগানের ৭৫-৮০ শতাংশ গাছে মুকুল না এলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
আমচাষি বিশ্বনাথ মণ্ডল বলেন, জেলার বেশিরভাগ আমচাষির নিজের বাগান নেই। স্বল্পমেয়াদী বা দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে বাগান লিজ নিয়ে আম চাষ করেন। আম চাষের আগে প্রায় সব চাষি সুদে টাকা নিয়ে বাগানে লগ্নি করেন। এবছর গাছে মুকুলের কার্যত দেখা নেই। অথচ এই সময়ে সারেঙ্গা, বিমলি, বীরা প্রভৃতি জলদি প্রজাতির গাছে আম ধরতে শুরু করে। এই বছর অল্প সংখ্যক গাছে সবেমাত্র মুকুল দেখা দিয়েছে। তবে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে গরম পড়তে শুরু হলে মুকুল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলার অপর এক আম চাষি নিশান আলি বলেন, গত বছর আমের ‘অফ ইয়ার’ ছিল। স্বাভাবিকভাবেই, চলতি বছর ‘অন ইয়ার’ হবে এই আশায় বুক বেঁধে মোটা টাকা দিয়ে দু’টি বাগান লিজ নিয়েছি। কিন্তু দু’টি বাগানের শতাধিক গাছের মধ্যে মাত্র ১৫-২০টি গাছে মুকুল সবেমাত্র দেখা দিয়েছে। ফলন ভালো না হলে মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ