অলোক মুখার্জি, কলকাতা: চলতি আইএসএলে এখনও পর্যন্ত শনিবারের মোহন বাগান বনাম কেরল ব্লাস্টার্স ম্যাচটিই সেরা। যোগ্য দল হিসেবে জয় পেয়েছে হোসে মোলিনা ব্রিগেড। তবে কেরলের লড়াইকে কোনওভাবেই খাটো করে দেখলে চলবে না। অ্যাওয়ে ম্যাচে একবারের জন্যও মনে হয়নি যে, ওরা চাপে রয়েছে। বরং প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পথে হেঁটেছে নোয়া-গিমেনেজরা। প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে, শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত তারা। চাপের মুখে আরও একবার তিনকাঠির নিচে অন্যবদ্য পারফরম্যান্স মেলে ধরল বিশাল কাইথ। প্রতি ম্যাচেই নিজেকে ছাপিয়ে যাচ্ছে এই দূর্গপ্রহরী। অথচ জাতীয় দলে রিজার্ভ বেঞ্চই ওর জন্য বরাদ্দ! ভারতীয় কোচের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন— আর কবে সুযোগ পাবে বিশাল? পাশাপাশি জেসন কামিংসের প্রশংসা করতেই হবে। জেমি ম্যাকলারেনের জন্য প্রথম একাদশে জায়গা হারিয়েছে অজি বিশ্বকাপার। তবে ম্যাচে যতটুকু সময় পাচ্ছে, সেরাটা উজাড় করে দিচ্ছে। চেন্নাইয়ানের বিরুদ্ধে ওর শেষলগ্নের গোলেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। শনিবারও কামিংস মাঠে নামার পর ম্যাচে রং বদলাল। আসলে ও একজন প্রকৃত বক্স স্ট্রাইকার। গোলের জন্য সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় কীভাবে পৌঁছতে হয়, তা ও ভালোই জানে। সবমিলিয়ে এই মোহন বাগানে একাধিক ম্যাচ উইনার রয়েছে। তাই যে কোনও পরিস্থিতিতে ওরা ঘুরে দাঁড়াতে জানে।
Advertisement
একই সঙ্গে কোচ হোসে মোলিনার প্রশংসাও করতে হবে। স্কোর ২-২ হওয়ার পর এই স্প্যানিশ কোচ কিন্তু ড্রয়ের কথা না ভেবে জয়ের জন্যই ঝাঁপিয়েছিলেন। তাঁর পরিবর্তনগুলিতেও সেই বার্তা ছিল স্পষ্ট। আসলে ব্যাঙ্কে টাকা থাকলে হাতখুলে খরচ করা যায়। মোহন বাগান কোচের হাতেও এত বিকল্প রয়েছে যে, তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ঝুঁকি নিতে পিছুপা হন না। তবে রক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই গেল। শনিবারও যেভাবে দু’গোল হজম করল মোহন বাগান, তা মোটেই কাম্য নয়। বিশেষত শুভাশিসের ভুলটা ক্ষমার অযোগ্য। ওই জায়গায় কেন ওভাবে বল রিসিভ করে টার্ন করবে? নিজের প্রতি বিশ্বাস না থাকলে বলটা বাইরে পাঠিয়ে দিতেই পারত। বরং গত ম্যাচে আশিক কুরুনিয়ন লেফট-উইং ব্যাক পজিশনে কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছিল। শনিবার ও মাঠে নামতেই বাঁ প্রান্ত অনেক বেশি সচল হয়। পরের ম্যাচে শুভাশিসের জায়গায় ওকে শুরু থেকে খেলালে আমি অবাক হব না।



