Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আট দিনের লড়াই শেষ, বাবাকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বপ্না

গত আটদিন ধরে চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। শনিবার সকালে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মনের বাবা পঞ্চানন বর্মনের (৭১)।

আট দিনের লড়াই শেষ, বাবাকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বপ্না
  • ২২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গত আটদিন ধরে চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। শনিবার সকালে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মনের বাবা পঞ্চানন বর্মনের (৭১)। বাবাকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দেশের গর্ব এই অ্যাথলিট। কিছুদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন উত্তরের ‘সোনার মেয়ে’ স্বপ্না। দল তাঁকে রাজগঞ্জে প্রার্থী করেছে। জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরুর আগেই বাবার মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন তিনি।

Advertisement

স্বপ্নার বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে এদিন তাঁর জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের ঢিংপাড়ার বাড়িতে ভিড় করেন তৃণমূল কর্মীরা। ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বাড়িতে স্বপ্নার বাবাকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে আসেন তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ। পরে তিনি বলেন, বাবাকে হারিয়ে স্বপ্না মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। দল তাঁর পাশে আছে। স্বপ্নার এখন মা ও পরিবারের পাশে থাকা দরকার। দল তাঁর হয়ে ভোটের প্রচারে আছে। আগামী ৩১ মার্চ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজগঞ্জে নির্বাচনী জনসভা করবেন।
ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন স্বপ্নার বাবা। প্রথমে তাঁকে জলপাইগুড়ি মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় শিলিগুড়িতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। গত কয়েকদিন ধরেই সংকটজনক ছিল অবস্থা। ভেন্টিলেশনে চিকিৎসা চলছিল। বাবার সুস্থতা কামনায় তিনদিন আগে বোদাগঞ্জে ভ্রামরীদেবীর মন্দিরে পুজো দেন স্বপ্না। জানিয়েছিলেন, বাবার শরীর ঠিক থাকলে শনিবার থেকে পুরোদমে প্রচারে নামবেন। কিন্তু এদিন সকালেই হাসপাতাল থেকে দুঃসংবাদ আসে। বাড়িতে গিয়ে তাঁকে সমবেদনা জানিয়ে আসেন তৃণমূলের জলপাইগুড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী কৃষ্ণ দাস। জলপাইগুড়ির মাসকলাইবাড়ি শ্মশানে স্বপ্নার বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
গত কয়েকদিন ধরে একবার বাবাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন স্বপ্না, সেখান থেকে ফিরে যোগ দিয়েছেন দলের বৈঠকে। বাড়িতে আসা কর্মীদের সঙ্গেও প্রয়োজনীয় আলোচনা সেরেছেন। কিন্তু বাবার জন্য তিনি যে প্রচণ্ড উদ্বেগে রয়েছেন, তাঁর চোখ-মুখ দেখেই তা বোঝা যাচ্ছিল। মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার আগে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাবা না থাকলে আজ আমার স্বপ্না বর্মন হয়ে ওঠা উঠত না। ভ্যানরিকশ চালিয়ে বাবা আমাকে পড়াশোনা শিখিয়েছে। খেলার মাঠে নিয়ে গিয়েছে। মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়ে রাজনীতিতে যোগ দিতে চাই জেনে বাবা খুশি হয়েছিলেন। 
• নিজস্ব চিত্র।

সম্পর্কিত সংবাদ