নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: গৌড়বঙ্গে ক্রমশ জমে উঠছে ঈদের বাজার। ইতিমধ্যে নতুন জামাকাপড়, প্রসাধন সামগ্রী কেনার পাশাপাশি মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন ঈদ স্পেশাল খাবার তৈরির উপকরণ কিনতেও। বিশেষ করে উপচে পড়ছে লাচ্ছা, সিমুই ও বিভিন্ন স্বাদ ও গন্ধের সরবত তৈরির উপাদানের দোকানগুলিতে। মালদহ শহরের বিভিন্ন পুর বাজারে এখন ডালি ভরে লাচ্ছা, সিমুইয়ের সম্ভার নিয়ে বসেছেন সামিউল ইসলাম, রনি হোসেনরা। তাঁরা জানান, ঈদের দিন যত এগিয়ে আসছে, বাড়ছে লাচ্ছা সিমুইয়ের বিক্রি। একই সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন স্বাদের শরবত তৈরির উপাদানও। বিক্রির দিক থেকে উপরের দিকে রয়েছে খেজুর সহ বিভিন্ন শুকনো ফলও। খাদ্যসামগ্রী কেনার পাশাপাশি পোশাকও কিনে নিচ্ছেন অনেকে।
লাচ্ছা ও সিমুই বিক্রেতারা বলেন, গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেড়েছে। কারণ হিসাবে তাঁরা জানান, ডালডা, ময়দা ইত্যাদির মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। লাচ্ছা বিকোচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে। সিমুই মিলছে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। বীরভূমের সিউড়ি থেকে আমদানি করা লাচ্ছা ও সিমুইয়ের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন তাঁরা। একেকজন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ডালি লাচ্ছা ও সিমুই তুলেছেন। প্রতিদিন গড়ে বিক্রি হচ্ছে আড়াই ডালি।
গ্রাম থেকে মালদহ শহরে ঈদের পোশাক ও উপহার সামগ্রী কিনতে এসে অনেকেই ঘুরে যাচ্ছেন লাচ্ছা, সিমুইয়ের বাজারে। চাঁচল থেকে মালদহে এসে লাচ্ছা কিনে আজিজুল আলি বলেন, ঈদের দিন লাচ্ছা, সিমুই তো লাগবেই। তাছাড়াও প্রতিদিন রোজা ভাঙার পরে অনেকে ইফতারেও এই দু’টি খাবার খান। সঙ্গে থাকে গোলাপ, আমপানা, লেবুর স্বাদ ও গন্ধের স্কোয়াশও। সরবত তৈরিতে ব্যবহার করা হয় ওই উপাদান।
ক্রেতা মহম্মদ মুজিবর রহমানের কথায়, ঈদে বাড়িতে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় লাচ্ছা ও সিমুই দিয়ে তৈরি মিষ্টি খাবার দিয়ে। মালদহ শহরে নানান লাচ্ছা, সিমুই মেলে বলে এখানে বাজার করছি। একইসঙ্গে পোশাকও কিনে নিয়ে যাচ্ছি।
উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। রায়গঞ্জ শহরের জামাকাপড়ের দোকান, শপিং মলগুলিতে ভিড় বাড়ছে। মোহনবাটি, শিলিগুড়ি মোড় লাগোয়া বাজার এলাকায় দুপুর থেকেই কেনাকাটা চলছে কয়েকদিন ধরে। খাদ্য সামগ্রীর জন্য প্রত্যেকদিন ভিড় জমছে মোহনবাটি সহ অন্যান্য বাজারে।
দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটেও ঈদের বাজার জমজমাট। পোশাক বিক্রেতারা আশা করছেন, গতবারের থেকে ভালো ব্যবসা হবে। পোশাক ব্যবসায়ী সুব্রত মহন্ত বলেন, দু’তিনদিন পর থেকে আরও লোক আসবেন ঈদের বাজার করতে। আশা করছি বিক্রি ভালোই হবে। নিজস্ব চিত্র।