Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ম্যাগাজিন

এইচএমপিভি: ভিত্তিহীন উদ্বেগ, লাগাতার প্রচারের পিছনে আর্থিক স্বার্থ থাকতে পারে ডা: অপূর্ব ঘোষ, বিশিষ্ট শি

‘ভাইরাস’। এই একটি শব্দই ঠান্ডা আবহেও ঘাম ঝরাতে যথেষ্ট। তবে কি পাঁচ বছর আগের করোনা পরিস্থিতি, দুর্ভোগ, যন্ত্রণা, আর্থিক সঙ্কট আবার ফিরে আসবে! এইচএমপিভির সংক্রমণ কি সত্যিই উদ্বেগজনক? সত্যিটা হল, করোনার সঙ্গে এই ভাইরাসের তুলনা করা যায় না।

এইচএমপিভি: ভিত্তিহীন উদ্বেগ, লাগাতার প্রচারের পিছনে আর্থিক স্বার্থ থাকতে পারে
ডা: অপূর্ব ঘোষ, বিশিষ্ট শি
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
‘ভাইরাস’। এই একটি শব্দই ঠান্ডা আবহেও ঘাম ঝরাতে যথেষ্ট। তবে কি পাঁচ বছর আগের করোনা পরিস্থিতি, দুর্ভোগ, যন্ত্রণা, আর্থিক সঙ্কট আবার ফিরে আসবে! এইচএমপিভির সংক্রমণ কি সত্যিই উদ্বেগজনক? সত্যিটা হল, করোনার সঙ্গে এই ভাইরাসের তুলনা করা যায় না। করোনার যে ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছিল (কোভিড ১৯), তা সম্পূর্ণ নতুন চরিত্রের। অর্থাৎ সেই ভাইরাস কীভাবে আচরণ করবে, কীভাবে তা থেকে সুরক্ষিত থাকা যায়, এগুলি নতুন করে গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছিল চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞদের। ফলে অনেকটা সময় লেগেছিল। মহামারীর আকার নিয়েছিল ভাইরাস। এক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়। কারণ এইচএমপিভি (হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাস) মোটেই নতুন কোনও ভাইরাস নয়। প্রায় দু’দশক আগে নেদারল্যান্ডসে প্রথম সন্ধান মেলে এই ভাইরাসের। ভারতেও বহু বছর ধরে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার নজির রয়েছে। মরশুম বদলের সময় বিশেষত শীত ও বসন্তে এই ভাইরাস অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। 
Advertisement
কীভাবে ছড়ায় এই ভাইরাস? লক্ষণ কী? 
অন্যান্য ফ্লু যেভাবে ছড়ায়, সেভাবেই এই ভাইরাসও ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি কাশির মাধ্যমে নির্গত ড্রপলেট থেকে সংক্রমণ বাড়ে। আক্রান্ত হলে সর্দি, কাশি ও হালকা জ্বর হয়। শ্বাসকষ্টের সমস্যাও হতে পারে। তবে আক্রান্ত হলেও খুব ক্ষতি হবে, এমনটা ভাবার কোনও অর্থ নেই। 

কারা সতর্ক থাকবেন? 
উদ্বিগ্ন না হলেও সতর্কতা বজায় রাখা দরকার। মূলত দু’বছরের নীচে শিশু ও প্রবীণদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ তাঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কম। তাঁদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়াও প্রয়োজন। 

কী উপায়ে সতর্ক থাকবেন? 
করোনাকালের পর থেকেই কয়েকটি অভ্যেস আমাদের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে। যেমন বাইরে থেকে এসে হাত-পা ধোয়া। খাওয়ার আগে স্যানিটাইজ করা। এই পদ্ধতিগুলি মেনে চললেই সুরক্ষিত থাকা যায়। এছাড়াও রাস্তায় মাস্ক ব্যবহার, দূরত্ব বজায় রাখতে পারলে ভালো হয়। এই মরশুমে শিশুদের নিয়ে ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। বয়স্কদেরও সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার। 

চীনে কী হচ্ছে? 
চীনে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। সেখানে ভাইরাসের চরিত্র বদল হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে আতঙ্কের কিছু নেই। একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, ঘরোয়া উপায়ে দ্রুত সেরে ওঠেন এই ভাইরাসে আক্রান্তরা। তাই উদ্বিগ্ন না হয়ে সুস্থ জীবনযাপন করুন। 
লিখেছেন শান্তনু দত্ত
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ