Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

করিমপুর: ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির জেরে সাড়ে ৬০০ অঙ্গনওয়াড়িতে দেওয়া হচ্ছে না ডিম

করিমপুরে ডিমের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোতে শিশু ও মায়েদের পুষ্টি সেবা বন্ধ। পরিস্থিতি জটিল, বিস্তারিত পড়ুন।

করিমপুর: ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির জেরে সাড়ে ৬০০ অঙ্গনওয়াড়িতে দেওয়া হচ্ছে না ডিম
  • ১৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: বাজারে ডিমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে করিমপুরের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে শিশু, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের পাতে আর উঠছে না ডিম। গত ১ জুলাই থেকে করিমপুর ১ ও ২ ব্লকের প্রায় সাড়ে ছয়শো অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ডিম সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, পুষ্টিকর খাদ্যের অন্যতম প্রধান উপাদান ডিম দীর্ঘদিন ধরে না পাওয়ায় শিশু এবং মায়েরা বঞ্চিত হচ্ছেন সরকারের নির্ধারিত পুষ্টি পরিষেবা থেকে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে শিশুদের সঠিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে এবং গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা হয়। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে সোমবার, বুধবার এবং শুক্রবার শিশু ও মায়েদের জন্য গোটা ডিমের সঙ্গে ভাত পরিবেশন করার কথা। শিশু প্রতি ৫০ গ্রাম এবং মায়েদের জন্য ১১০ গ্রাম চাল বরাদ্দ রয়েছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার ও শনিবার মাথাপিছু ৭৫ গ্রাম চাল এবং ৩০ গ্রাম ডালের পাশাপাশি শিশুদের অর্ধেক ডিম এবং মায়েদের একটি করে গোটা ডিম দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা জানান, সরকারিভাবে প্রতিটি ডিমের জন্য কেন্দ্রগুলিকে সাড়ে ছয় টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও বর্তমানে খোলা বাজারে একটি ডিম কিনতে প্রায় আট টাকা বা তারও বেশি খরচ হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত বরাদ্দের মধ্যে ডিম সরবরাহ করা আর সম্ভব হচ্ছে না। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আরও অভিযোগ, শুধুমাত্র ভাত ও ডিম দিয়ে খাবার পরিবেশন করাও বাস্তবসম্মত নয়। সেই কারণে প্রতিদিনের জন্য বরাদ্দ থাকা ৩০ গ্রাম ডালকে ভাগ করে প্রতিদিন খিচুড়ি রান্না করা হয়। এতদিন সেই খিচুড়ির সঙ্গে নিয়ম মেনে ডিমও দেওয়া হত। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে ডিমের দাম লাগাতার বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়ে ডিম সরবরাহ আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করিমপুর ২ ব্লকের ১০ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী সোমা রায় বলেন, বর্তমান সরকারি বরাদ্দে ডিম দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি স্থানীয় বিডিও এবং সিডিপিও-র নজরে আনা হয়েছে। তাঁদের অবগত করেই আপাতত ডিম দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। করিমপুরের বাসিন্দা ও অভিভাবক বিপ্লব মণ্ডল বলেন, গ্রামের অনেক পরিবার আছে যাদের পক্ষে নিয়মিত ডিম কেনা সম্ভব হয় না। তাদের সন্তান এবং বাড়ির গর্ভবতী বা প্রসূতি মহিলারা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের খাবারের উপর নির্ভর করেন। এখন ডিম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা তাঁদের প্রাপ্য পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। করিমপুর দুই ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিডিপিও তাপস বিশ্বাস জানান, দাম বাড়ার কারনে কেন্দ্র গুলোতে ডিম দেওয়া বন্ধ রেখেছে। বিষয়টি জেলা আধিকারিকদের জানানো হয়েছে। নির্দেশ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ