Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে ধরা হচ্ছে ডিমভর্তি বোরোলি, তিস্তায় সংরক্ষণের দাবি

তিস্তায় জল বাড়তেই দেখা মিলছে পেটে ডিমভর্তি বোরোলির। ফলে হাসি ফুটেছে নদীপাড়ের মৎস্যজীবীদের। বাজারে চাহিদা থাকায় অনেকেই জাল ফেলে ওই বোরোলি ধরতে মরিয়া।

পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে ধরা হচ্ছে ডিমভর্তি বোরোলি, তিস্তায় সংরক্ষণের দাবি
  • ২৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: তিস্তায় জল বাড়তেই দেখা মিলছে পেটে ডিমভর্তি বোরোলির। ফলে হাসি ফুটেছে নদীপাড়ের মৎস্যজীবীদের। বাজারে চাহিদা থাকায় অনেকেই জাল ফেলে ওই বোরোলি ধরতে মরিয়া। তিস্তার তাজা বোরোলির চাহিদা তুঙ্গে ডুয়ার্সের হোটেল, রিসর্ট, হোম স্টেগুলিতে। পর্যটকদের চাহিদা পূরণে বাজারে আসামাত্র ওই মাছ বেশি দামে কিনে নিচ্ছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। তারপর সেই বোরোলির ভাজা, ঝোল, চচ্চড়ির মতো নানা পদের অতুলনীয় স্বাদে বিভোর হচ্ছেন পর্যটকরা। তবে যত দিন যাচ্ছে, তিস্তায় বোরোলি কমছে। ফলে তিস্তার রুপোলি শস্যের সংরক্ষণে এসময় ডিমভর্তি বোরোলি ধরার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি তুলেছেন অনেকে। যদিও খোকা ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকলেও বোরোলি নিয়ে কোনও সরকারি নির্দেশিকা নেই বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা মৎস্য আধিকারিক অমিত সরকার। 

Advertisement

উত্তরে এখনও বর্ষা শুরু হয়নি। তবে প্রাকবর্ষার বৃষ্টি হচ্ছে। সেইসঙ্গে সিকিম পাহাড়ে সম্প্রতি ভালোই বৃষ্টি হয়েছে। তারই জেরে জল বেড়েছে তিস্তায়। এতেই স্রোতের টানে নদীর নিম্ন অববাহিকায় চলে এসেছে বোরোলি। এখন তাদের ডিম ছাড়ার সময়।  সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে তিস্তায় জল নামার আগে আঙুল সাইজের হয়ে উঠবে বোরোলি। জাল ফেললেই তখন ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা দেবে সেই মাছ। যদিও সেই সুযোগ আর মিলছে কোথায়? বাজারে চাহিদার কথা মাথায় রেখে পেটে ডিমভর্তি বোরোলি জালে তুলতে এখন মরিয়া মৎস্যজীবীরা। আর হবে নাই বা কেন, বাজারে তিস্তার একটু বড় সাইজের বোরোলির দাম উঠেছে হাজার টাকা কেজি। বাজার পর্যন্ত আসতে হচ্ছে না। তিস্তার পাড়ে এসে দাঁড়িয়ে থাকছেন ক্রেতারা। 
সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, উত্তরবঙ্গের কথা বললেই তাঁর বোরোলির কথা মনে পড়ে। বোরোলির টানে অনেকেই বারবার ছুটে এসেছেন উত্তরে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর বোরোলি প্রীতি তো সবার জানা। কিন্তু সারাবছর তার দেখা পাওয়া ভার। আর তাই তিস্তার ‘রুপোলি শস্য’কে নিয়ে হা-পিত্যেশেরও শেষ থাকে না। তবে এই মুহূর্তে যাঁরা ডুয়ার্সে রয়েছেন, তাঁরা অবশ্য চেটেপুটে উপভোগ করছেন বোরোলির স্বাদ। 
লাটাগুড়ি হোটেল অ্যান্ড রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, ডুয়ার্সে যাঁরা বেড়াতে আসেন, বোরোলির প্রতি তাঁদের একটা আলাদা আকর্ষণ থাকে। অনেকে তো বুকিংয়ের সময়ই জানতে চান, বোরোলি খাওয়াবেন তো? পর্যটকদের চাহিদামতো আমরা তাঁদের পাতে বোরোলির নানা পদ তুলে দিচ্ছি ঠিকই। তবে বোরোলিকে সংরক্ষণের জন্য এসময় ডিমভর্তি মাছ যাতে তাঁরা না খেতে চান, সেই আবেদনও রাখা হচ্ছে।  তিস্তার বোরোলি। - নিজস্ব চিত্র।

সম্পর্কিত সংবাদ