হায়দরাবাদ: গরিব পরিবারের মহিলাদের মোটা টাকার টোপ। রমরমিয়ে চলছিল ডিম্বাণু ডোনেশনের চক্র। সেইসব ডিম্বাণু পৌঁছে যেত বিভিন্ন আইভিএফ ও ফার্টিলিটি সেন্টারে। আন্তঃরাজ্য এই চক্র কাজ চালাচ্ছিল হায়দরাবাদের শেট্টি ওয়ার্কিং উইমেন’স হস্টেল থেকে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় হানা দিয়ে এই চক্রের পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সহ সাত রাজ্যের মোট ৪৩ জন মহিলাকে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বিভিন্ন হরমোনাল ইঞ্জেকশন, ওষুধ, ট্যাবলেট, মোবাইল ফোন ও নথিপত্র। মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার বি সুমতী জানিয়েছেন, হস্টেলের মালিক দুর্গাপ্রসাদ সহ চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হায়দরাবাদের বেঙ্কটেশ্বর কলোনির ওই হস্টেল ছাড়াও ৩০ অক্টোবর হানা দেওয়া হয় প্রকাশ নগর, বেগমপেট, সারুরনগর, ইররাগাদ্দা ও গোপালপুরম এলাকায়। পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড়, দিল্লি, অসম, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে ‘এগ-ডোনার’ হিসাবে আনা মোট ৪৩ জন মহিলাকে উদ্ধার করা হয়। প্রতি ‘এগ-ডোনেশন সাইকেল’-এ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মিলবে বলে টোপ দিয়ে গরিব পরিবারের এই মহিলাদের হায়দরাবাদে আনা হত। বেগমপেটের এসএইচও জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া সিরিঞ্জ ও ওষুধ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে গান্ধী হাসপাতালে। উদ্ধার হওয়া মহিলাদের উপর হরমোনাল স্টিমুলেশন ও ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল কি না, বা সেক্ষেত্রে তাঁদের সম্মতি ছিল কি না, সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। চিকিৎসাজনিত সুরক্ষাবিধি মানা হয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইভিএফ ও ফার্টিলিটি সেন্টারগুলির রেজিস্ট্রেশন সহ অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।



