ফের মোদিকে ডুয়েলের ডাক রাহুলের, ইস্যু অর্থনীতি থেকে এপস্টাইন, ‘যাকে খুশি বিচারক বসান, চাইলে ভাগবতকে’
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ২৪ ঘণ্টা পার। এবং ফের চ্যালেঞ্জ। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর। লক্ষ্য সেই এক—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের বেহাল অর্থনীতি হোক, বিদেশি মদতে সরকার চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ, কিংবা এপস্টাইন ফাইল। মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী আরও একবার ডুয়েলের ডাক দিলেন মোদিকে। বললেন, ‘২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে মোদিজি...। আপনি বলেন, বিরোধীরা নাকি দেশদ্রোহী। প্রমাণ তো করতে হবে! যে কোনো মঞ্চ বেছে নিন, যে কোনো স্থান। বিতর্কে আসুন—আসল দেশদ্রোহী কে? বিদেশি শক্তির সঙ্গে কার যোগ রয়েছে? আর সেই যোগসাজশের প্রকৃতিই বা কী?’ শুধু চ্যালেঞ্জেই শেষ নয়, রাতে এক্স হ্যান্ডলে ভোটিংও শুরু করে দিয়েছেন রাহুল। যুব সমাজের কাছে তাঁর প্রশ্ন, আপনারা কী মনে করেন, ডিবেট হওয়া উচিত? হ্যাঁ কি না? হ্যাঁ হলে ‘মোদিজি ডরো মাত’। না হলে ‘মোদিজি ডর গয়ে’। পাঁচ ঘণ্টায় ১ লক্ষ  ৭১ হাজারের বেশি ভোট পড়ে যায়। তার মধ্যে ৭৩ শতাংশই রাহুল-মোদি মুখোমুখি বিতর্কের পক্ষে রায় দিয়েছেন। 

Advertisement

দেশজুড়ে ‘লোকতন্ত্র’ বাঁচানোর কর্মসূচিতে নেমেছে বিজেপি। প্রত্যেক ডবল ইঞ্জিন সরকার তো বটেই, স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও জাতীয় পতাকা হাতে হাঁটছেন এবং গণতন্ত্র বাঁচানোর ডাক দিচ্ছেন। বিরোধীরা অবশ্য এতে কটাক্ষ করছে যে, বিজেপি তাহলে মেনে নিচ্ছে দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন! দু’পক্ষের কর্মসূচি ঘিরেই চলছে তুমুল বাদানুবাদ। সেই টক্করকেই চড়া মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন রাহুল গান্ধী, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে। শুধু এটুকু বলেই তিনি ক্ষান্ত থাকেননি। মঙ্গলবার ফের মনেও করিয়ে দিয়েছেন। পুরোদস্তুর খোঁচা দিয়ে তিনি মোদিকে বলেছেন, ‘ডরো মাত। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিতর্কে আসুন।’ রাহুলের সংযোজন, ‘আমরা থাকব, মিডিয়া থাকবে, দেশের সমগ্র যুবসমাজ থাকবে। টেবিলের একদিকে আপনি থাকবেন, অন্যদিকে আমি। বিচারক আপনি ঠিক করুন। যাকে খুশি। আপনি মনে করলে মোহন ভাগবতজিকেও আমাদের দু’জনের বিতর্কের বিচারক হিসাবে নিয়োগ করতে পারেন।’
রাজনৈতিক মহল বলছে, এ শুধু কটাক্ষ নয়, বরং আরও বড়ো চ্যালেঞ্জ। তাদের দাবি, সরসংঘ চালককেই বিতর্কে বিচারক হিসাবে বসানোর প্রস্তাব দিয়ে রাহুল গান্ধী বিজেপির রাজনীতিকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন। একে তো জেন জি আন্দোলনে আরএসএস যথেষ্টই অস্বস্তিতে। কীভাবে এই সমস্যা নির্মূল করা যায়, তা নিয়ে শাসক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হচ্ছে তাদের। এই পরিস্থিতিতে মোহন ভাগবতকে দেশের স্বার্থে সাক্ষী মানতে চাওয়াটা যে রাহুলের একপ্রকার মাস্টারস্ট্রোক, সে বিষয়ে কারও সন্দেহ নেই। বিতর্কের ইস্যুও আগেভাগে বলে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেছেন, ‘প্রশ্ন উঠবে অর্থনীতির পরিকাঠামো ও ব্যবস্থা নিয়ে। কোন শর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডিল হল? কেন এত দ্রুত তা করতে হল? কেন মন্ত্রিসভাকে না জানিয়ে একা এই চুক্তি করলেন? আদানি মামলা কেন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল? এপস্টাইন এবং আরও বেশ কিছু ইস্যু। খোলাখুলি আমরা আলোচনা করব। সত্যিটা সামনে আসুক।’ আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে সমাজমাধ্যমে রাহুল পোস্ট করেছেন, ‘কত বিষয়েই না আপনি আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন। যতদূর মনে পড়ছে, ৪৫টা। এতে কী হবে? বিদেশি শক্তির মদত নিয়ে আপনি তো কোনো মানহানির মামলা করলেন না? সেটাও করুন! ওই ইস্যু নিয়েও আমরা খুল্লামখুল্লা আলোচনা করি!’ আর এই বক্তব্যের শেষ কীভাবে করলেন রাহুল? ‘হ্যাপি দিওয়ালি মোদিজি’... আলোর উৎসবে যাবতীয় ধন্দের ‘অন্ধকার’ দূর করার ডাক দিয়ে।