ন’মাস পরও ডিএ বকেয়া কেন, রাজ্যকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: মহার্ঘ ভাতা যে সরকারি কর্মীদের ‘আইনি অধিকার’, সেই রায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই মতো ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর নির্দেশ জারি হয়েছিল। তারপর কেটে গিয়েছে ন’মাস। কিন্তু রাজ্য সরকার প্রথম দফায় যে পরিমাণ ডিএ মিটিয়ে দেবে বলে জানিয়েছিল, সেটাও এ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলে মঙ্গলবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হল শীর্ষ  আদালতে। সাফ জানানো হল, গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা এর এক নয়া পয়সাও পায়নি। তাঁদের বকেয়ার পরিমাণই ১৮ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা। বঞ্চিত থেকে গিয়েছে অবসরপ্রাপ্তদের সিংহভাগও। 

Advertisement

বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চে ছিল শুনানি। রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনের আইনজীবীরা সেখানে জানান, মোট বকেয়া যেখানে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা, সেখানে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৮ হাজার কোটি। এই গোটা বকেয়াই মেটানো হয়েছে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে, সরকারি কর্মী ও পেনশন প্রাপকদের। কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ, সরকারি কর্মী পরিষদ, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এবং ইউনিটি ফোরামের মতো চার সংগঠনের পক্ষে এদিন সওয়াল করেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, বিকাশ সিং, করুণা নন্দী এবং ফিরদৌস শামিম। 
মূল ডিএ মামলায় ২০২২ সাল থেকে চার বছরে ২৬ বার শুনানি হয়েছিল। শেষে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ১২৪ পাতার রায়দান। সেখানে  নির্দেশ ছিল, রোপা মেনে এবং অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুসরণ করে মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় হারে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ’র ২৫ শতাংশ ছ’সপ্তাহের মধ্যে এবং বাকি ৭৫ শতাংশ কবে, কীভাবে, কত কিস্তিতে মেটানো হবে, তা ঠিক করবে সুপ্রিম কোর্টের গঠন করা ইন্দু মালহোত্রা কমিটি। নজর করার মতো বিষয় হল, এপর্যন্ত যে ৮ হাজার কোটি টাকা বকেয়া মেটানো হয়েছে, তার মধ্যে ৭ হাজার কোটিই দিয়েছিল পূর্বতন সরকার। কলকাতা পুর এলাকায় বসবাসকারী যে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ‘টেকনিক্যাল’ কারণে আটকে ছিল, সেই হাজার কোটি টাকার মতো মিটিয়েছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। সেটাও ক্ষমতায় আসার ৪ মাস পর। তারপর ২০০৮ থেকে ২০১৬’র হিসাব ‘নতুন করে’ই কষছে সরকার। বকেয়া মেটানোর ব্যাপারে নতুন কোনো ঘোষণা হয়নি।
রাজ্য সরকার অবশ্য দাবি করেছে, বিষয়টি নিয়ে ১৪ ডিসেম্বর ইন্দু মালহোত্রা কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা করতে হবে। তাতে অবশ্য চিঁড়ে ভেজেনি। এদিন সওয়ালে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উপস্থিত না থাকায় রাজ্যের পক্ষে দুই জুনিয়র আইনজীবীকে দাঁড় করানো হয়েছিল। মূল রায়দানের ন’মাস পরেও ডিএ জটিলতা কেন কাটল না—এই প্রশ্নে তাঁদেরই সুপ্রিম ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। পর্যবেক্ষণে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর মন্তব্য, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা রায় দিয়েছি। ন’মাস হয়ে গেল। এখনও টাকা মেটানো হয়নি! কত টাকা দেওয়া বাকি?’ ইন্দু মালহোত্রা কমিটি রিপোর্টের একাংশ উল্লেখ করে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, ‘সরকার তো নিজেই জানিয়েছে, বকেয়ার কিছু অংশ হিসাবে দু’টি কিস্তিতে এখনও ১৩৮ কোটি এবং ৩৫৮ কোটি বাকি। কমিটির সামনে যা আপাতত মেটাবেন বলে কথা দিয়েছেন, সেটা তো অন্তত মেটান!’ বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, বিস্তারিত শুনানি পরে হবে। আগে ইন্দু মালহোত্রা কমিটির বৈঠক হোক। কলকাতাতেই হবে ওই বৈঠক। কমিটিতে কর্মচারী সংগঠনের পক্ষে প্রতিনিধিরা নিজেদের বক্তব্য রাখুন। সেখানে কী হয়, তার রিপোর্ট দেখেই আগামী ২৯ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানি হবে। সংক্ষিপ্ত শুনানিতে মঙ্গলবার বেঞ্চ রা‌জ্য কর্মচারীদের আইনজীবীদের কাছে জানতে চায়, ‘এই মুহূর্তে আপনারা কী চান?’ দাবি ছিল একটাই—সুপ্রিম কোর্ট ফেব্রুয়ারি মাসে যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা পালন করুক সরকার।