নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাঁকুড়া-অমরকানন রোডের মানকানালিতে গন্ধেশ্বরী নদীর উপর সেতু গড়ে তোলা হয়নি। প্রতিবছর বর্ষায় মানকানালি কজওয়ে জলের তলায় চলে যায়। ফলে বাঁকুড়া শহরের সঙ্গে প্রায় ৩০টি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এবারও একই পরিস্থিতি হয়েছে। মঙ্গলবার ওই কজওয়ের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় জলের তোড়ে একটি ডাম্পার ভেসে যায়। বুধবার দুপুরে বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত ও বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা মানকানালির ডুবন্ত কজওয়ে পরিদর্শন করেন।
জেলাশাসক বলেন, মানকানালিতে নদীর উপর সেতুর ডিপিআর তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, এস্টিমেটে মাটি পরীক্ষা সহ আরও কিছু বিষয়ে অর্থের সংস্থান ছিল না। ফের নতুন করে ডিপিআর তৈরি করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে তা রাজ্য সেচদপ্তরে পাঠানো হবে। আমরা দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বৈঠক করে তা চূড়ান্ত করছি। আগামী বর্ষার আগে যাতে সেতুর কাজ শেষ হয়, তার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুজয় দে, রাজীব নন্দী বলেন, প্রতি বছর বর্ষায় মানকানালি কজওয়ে ডুবে যায়। ভোটের আগে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছু হয় না। রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। বাঁকুড়া বিধানসভায় বিজেপি ঢালাও ভোটে পেয়েছে। অবিলম্বে যাতে ওই সেতুর কাজ শুরু করা হয়, তারজন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া জেলার মধ্যে বহু নদনদী ও খালবিল রয়েছে। সারাবছর ওইসব নদনদী ও খালে জল না থাকলেও বর্ষায় ফুলেফেঁপে ওঠে। জেলার পশ্চিম দিকের ব্লকগুলির নদনদীতে হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। মানকানালিতে গন্ধেশ্বরী নদীর উপর থাকা কজওয়েটি কয়েকবছর আগে ভেঙে যায়। পরে তা জেলা পরিষদের টাকায় সংস্কার হয়েছিল। কিন্তু, জলের প্রবল স্রোতে তা ফের ভেঙে পড়ে। বাঁকুড়া-২ ব্লকের মানকানালিতে গন্ধেশ্বরী নদীর উপর ১২ কোটি টাকা খরচে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার নিয়েছিল। রাজ্য গ্রামোন্নয়ন সংস্থার ডিপিআর তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু, ওই কাজ শুরু হয়নি। ডিপিআর নিয়ে জেলা প্রশাসন সন্তুষ্ট নয়। সেই কারণে ফের তা তৈরি করে রাজ্যে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, জেলা পরিষদের কাজের মান ভালো ছিল না। যত টাকা খরচ হয়েছে, সেই অনুযায়ী কাজ হয়নি। ফলে কিছুদিনের মধ্যে কজওয়ে ভেঙেচুরে যায়। এবারও জলের তোড়ে কজওয়ের একাংশের ক্ষতি হয়েছে। নদীর জলস্তর কমলে কজওয়ের বর্তমান পরিস্থিতি ভালোভাবে বোঝা যাবে। তবে তা যে চলাচলের উপযুক্ত থাকবে না, সেটা আমরা এখন থেকেই বুঝতে পারছি। আগামী বর্ষার আগে সেতুর কাজ শেষ করতে হলে পুজোর পর থেকেই ময়দানে নামতে হবে। এরমধ্যে সেচদপ্তর অর্থ বরাদ্দ করবে কি না, তা দেখতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানকানালি সেতু পরিদর্শনে জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত ও বিধায়ক। -নিজস্ব চিত্র