Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মন্দারমণিতে বাইপাস তৈরি ও দীঘার জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের তোড়জোড়

সৈকত শহর দীঘা ও মন্দারমণি যাওয়ার পথে নিত্যদিনের যানজটের সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। প্রথম পর্যায়ে রামনগর সংলগ্ন এলাকায় বাইপাস তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে খুব শীঘ্রই।

মন্দারমণিতে বাইপাস তৈরি ও দীঘার জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের তোড়জোড়
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: সৈকত শহর দীঘা ও মন্দারমণি যাওয়ার পথে নিত্যদিনের যানজটের সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। প্রথম পর্যায়ে রামনগর সংলগ্ন এলাকায় বাইপাস তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে খুব শীঘ্রই। পরবর্তী পর্যায়ে মন্দারমণি যাওয়ার রাস্তায় চাউলখোলা সংলগ্ন এলাকায় বাইপাস করা হবে। এদিকে দীঘা-নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যে সমস্ত জায়গায় কাজ বাকি রয়েছে, সেখানেও  তোড়জোড় শুরু হয়েছে। 

Advertisement

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে দীঘা থেকে নন্দকুমার জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। নন্দকুমার থেকে হেঁড়িয়া পর্যন্ত রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ হলেও হেঁড়িয়া থেকে নাচিন্দা পর্যন্ত কাজ হয়নি। নাচিন্দা থেকে কাঁথি পর্যন্ত রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ হয়। কাঁথি থেকে পিছাবনি পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ হয়। কিন্তু পিছাবনি থেকে দীঘা অংশ পর্যন্ত কাজ হয়নি। মূলত জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে এই সমস্ত জায়গায় কাজ আটকে যায়। এই দুটি রাস্তা খুবই সংকীর্ণ। হেঁড়িয়া থেকে নাচিন্দা পর্যন্ত কাজের জন্য মাপজোক সহ জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া ইতিপূর্বে শুরু হয়েছে। পিছাবনি থেকে দীঘা পর্যন্ত একইভাবে কাজ শুরু হয়েছে। 
পিছাবনি থেকে দীঘার পথে সংকীর্ণ রাস্তায় প্রতিনিয়ত প্রচুর গাড়ি যাতায়াত করায় রামনগর ও বালিসাই এলাকায় ব্যাপক যানজট লেগে থাকে। অপরদিকে মন্দারমণিগামী রাস্তায় পর্যটকদের অসংখ্য গাড়ি যাতায়াত করার কারণে প্রতিনিয়ত চাউলখোলাতেও যানজট লেগে থাকে। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও খুবই ভোগান্তিতে পড়েন। তাই বিগত সরকারের আমলে বছর দুয়েক আগে যানজট এড়াতে রামনগর ও চাউলখোলায় বাইপাস তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু জমিজটে কাজ থমকে ছিল। জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু হয়েও আটকে ছিল। বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জমি অধিগ্রহণে তোড়জোড় এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ বাসিন্দার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের টাকা পৌঁছে গিয়েছে। বাকি ৪০ শতাংশ জমির মালিককে অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে জোরকদমে। 
জানা গিয়েছে, রামনগরে সাড়ে ছ’ কিলোমিটার বাইপাস বর্তমান জাতীয় সড়কের দক্ষিণ দিকে কৃষিজমি বরাবর তৈরি হবে। বালিসাই সংলগ্ন আলমপুর ফিশারি অফিসের সামনে নরন্ডিয়া মৌজা থেকে শুরু হয়ে ফতেপুর সংলগ্ন কাবরা পেট্রল পাম্প পর্যন্ত হবে। জমি মাপজোক চলছে পুরোদমে। মোট ১২টি মৌজার জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে টেন্ডার ডেকে ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, অধিকাংশ জমির মালিক ক্ষতিপূরণ পেয়ে গিয়েছেন। সম্প্রতি মুখ্যসচিবের সঙ্গে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। দ্রুত কাজ শুরুর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রামনগরের বাসিন্দা সুদীপ দাস বলেন, পূবর্তন সরকারের আমলে ঘোষণা করা হলেও বাইপাস তৈরির কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই উদ্যোগী হয়েছে। বাইপাস হলে রামনগর ও চাউলখোলা এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট কমবে। পর্যটক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ